অনিয়মের প্রতিবাদ করে মামলা খেল গ্রামীবাসী

অনিয়মের প্রতিবাদ করে মামলা খেল গ্রামীবাসী

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ এলাকায় এলজিইডির একটি রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর নামে মামলা করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সিডিউল অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার (১৯ জুন) ওই রাস্তায় মানববন্ধনে করেছেন গ্রামবাসী।

দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর থেকে জুনিয়াদহ জিসি পর্যন্ত এক হাজার ৭৬২ মিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ পায় টিটু এন্টারপ্রাইজ নামে চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর ব্যয় ধরা হয় ৬৯ লাখ ২৭ হাজার ২৭৬ টাকা। গেল বছরের ২৯ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১২ মার্চে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় পরে ভেড়ামারার নাসির আহম্মেদ নামে এক ঠিকাদারের কাছে কাজটি ছেড়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি ঠিকাদার নাসির আহম্মেদ ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে সড়কের কাজ শুরু করেন। কার্পেটিং করার সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। ফলে হাত দিলেই উঠে আসতে থাকে নতুন কার্পেটিং। এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে এ ঘটনায় ১৩ জন গ্রামবাসীর নামে দৌলতপুর থানায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে বসেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্রমতে, সড়ক নির্মাণ কাজের প্রাইম কোটের ৪৮ ঘণ্টা পর কার্পেটিং করার নিয়ম থাকলেও এর আগেই (১২ জুন) ওই সড়কে প্রাইম কোট করা হয়। এরপর বৃষ্টিতে প্রাইম কোট ধুয়ে গেলেও পরেরদিন নতুন করে কোট না করেই তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করে সড়কের কার্পেটিং করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করার কথা থাকলেও কালো ড্রামের ইরানি বিটুমিন গলিয়ে সড়কটিতে ব্যবহার করা হয়।

মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি: প্রতিনিধি

এলাকাবাসী জানান, গত ১৫ জুন তারা রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় পরের দিন ১৬ জুন সন্ধ্যায় রাস্তায় ব্যবহৃত নিম্নমানের উপকরণ সেখান থেকে সরিয়ে নেয় হয়। এরপর ১৭ জুন গ্রামবাসীর নামে মামলা দায়ের করা হয়।

এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে হোসেনাবাদে ওই রাস্তার পাশে মানববন্ধন করেন গ্রামবাসী। এ সময় তারা সিডিউল অনুসারে রাস্তা নির্মাণের দাবি করেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাব-কন্ট্রাক্টটর নাসির উদ্দিনকে পাওয়া গেলেও তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার উদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর নামে চাঁদাবাজির মামলার বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman