উইঘুর ইস্যুতে চীনকে চাপ দিতে মার্কিন সিনেটে বিল পাস

উইঘুর ইস্যুতে চীনকে চাপ দিতে মার্কিন সিনেটে বিল পাস

উইঘুর ইস্যুতে চীনকে চাপ দিতে মার্কিন সিনেটে বিল পাস চীনে উইঘুর সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের জবাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিল পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সিনেটে সর্বসম্মত ভোটে দ্বিপক্ষীয় বিলটি পাস হয়। এতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি নিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে তীব্র বৈরি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর মাঝে নতুন এ বিল পাস হলো। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, উচ্চকক্ষ সিনেটে কোনো বাঁধা না পেয়ে পাস হলেও বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। সিনেট থেকে এখন বিলটি পাঠানো হবে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। সেখানে পাস হলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

চাইলে তিনি বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করতে পারবেন বা ভেটো দিতে পারবেন।
করোনা ভাইরাস মহামারি নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য প্রকাশে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প একাধিকবার চীনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে, চীনের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। চীন অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপবাদের অভিযোগ এনেছে। দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নতুন এই বিলটির কারণে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, চীন পূর্বে উইঘুরদের নির্যাতনের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বলেছে, এটা চীনের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এজন্য দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণকে বিদ্বেষপরায়ণ আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘ অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনে শিনজিয়াং অঞ্চলে ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে বন্দিশিবিরে আটক করা হয়েছে। তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ওই শিবিরগুলোয় উইঘুরদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।
নতুন বিলটি উপস্থাপন করেছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর মারকো রুবিও। এর আগে গত নভেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ উইঘুর নির্যাতনের জন্য দায়ী জ্যেষ্ঠ চীনা কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে একটি বিল পাস করে। ওই বিলটিতে বিশেষ করে, শিনজিয়াংয়ের কমিউনিস্ট পার্টি সেক্রেটারি চেন কুয়ানগুয়োকে দায়ী করা হয়। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির একজন সদস্য।
নতুন বিলটিতেও চেন কুয়ানগুয়োর বিরুদ্ধে বিশেষভাবে উইঘুর নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া, শিনজিয়াংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি সেক্রেটারি ঝু হাইলুনকেও উইঘুর নির্যাতনের জন্য সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। চীন পূর্বে হুশিয়ারি দিয়েছে যে, চেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হলে তার যথাযথ জবাব দেয়া হবে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন বিলটি নিয়ে ওয়াশিংটনস্থ চীনা দূতাবাসে যোগাযোগ করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman