উত্তরে আতিক-দক্ষিণে তাপসের জয়

উত্তরে আতিক-দক্ষিণে তাপসের জয়

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) একই পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।

ভোটের বেসরকারি ফলাফলে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তারা ভোটের প্রাথমিক বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন।

বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, উত্তরে আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১টি ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১টি ভোট।

এছাড়া, এই পদে ইসলামী আন্দোলনের ফজলে বারী মাসুদ ২৮ হাজার ২০০টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল ১৫ হাজার ১২২টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ান ৩ হাজার ৮৫৩টি এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল পিডিপির শাহিন খান দুই হাজার ১১১টি ভোট পেয়েছেন।

অপরদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে তাপস পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫টি ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২টি ভোট।

এছাড়াও, একই পদে ইসলামী ইন্দোলনের আবদুর রহমান ২৬ হাজার ৫২৫টি, জাতীয় পার্টির (জাপা) সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন ৫ হাজার ৫৯৩টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) বাহারানে সুলতান বাহার ৩ হাজার ১৫৫টি এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতারুজ্জামান আলিয়াস আয়াতুল্লাহ ২ হাজার ৪২১টি ভোট পেয়েছেন। এছাড়া, কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট প্রত্যাহার করেছেন গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবারই প্রথম দুই সিটির সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবারের সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এছাড়াও, ইভিএম-এ আঙুলের ছাপ না মেলার বিড়ম্বনা, বেশি ভোটার দেখাতে কৃত্রিম লাইন, সংঘর্ষ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়া, নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে রোববার ঢাকায় হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

আতিকুলের প্রতিশ্রুতি

এবারের নির্বাচনে ৩৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন আতিকুল ইসলাম। যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো- ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক বাস পরিষেবা চালু করা।

এছাড়াও রয়েছে, নগরীর মশার সমস্যা মোকাবিলায় ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট (আইভিএম) ব্যবস্থা বাস্তবায়ন,  আধুনিক ও স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়তে নগরীকে তিনটি অংশে ভাগ করে কাজ করা, নগরীর খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা কমানো, আমিন বাজারে রিসোর্সেস রিকভারি ফ্যাসিলিটি (আরআরএফ) স্থাপনের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ করা, সংগৃহীত বর্জ্য শক্তিতে রূপান্তর করা এবং নগরীর ব্যস্ততম এলাকাতে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং কমপ্লেক্স তৈরি করা।

তাপসের প্রতিশ্রুতি

নির্বাচনি ইশতেহারে পর্যটনের নগরী হিসেবে ভবিষ্যতের ঢাকাকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এছাড়াও, ঢাকাকে পুনরুজ্জীবিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় পুনরায় নকশা করে গাছ লাগানো হবে এবং বেশ কিছু বিনোদন পার্ক ও থিয়েটার গড়ে তোলা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

তার ইশতেহারে আরও রয়েছে, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার আশেপাশের এলাকাগুলোকে নতুন করে সংস্কার করা, ঢাকায় যাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি নির্মাণ, মশা নির্মূল করার জন্য নিয়মিত কার্যক্রম ও ফায়ারসার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে এমন রাস্তা নির্মাণ এবং নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক হোস্টেল নির্মাণ ও নাগরিকদের সার্বক্ষণিক কাজে লাগে এমন অ্যাপ চালু করা।

এছাড়া, নির্বাচিত হলে ৯০ দিনের মধ্যে নগরবাসীর সব মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাপস।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman