এমপি এনামুলের স্ত্রী দাবি করে স্ট্যাটাস, তোলপাড়

এমপি এনামুলের স্ত্রী দাবি করে স্ট্যাটাস, তোলপাড়

এমপি এনামুলের স্ত্রী দাবি করে স্ট্যাটাস, তোলপাড় রাজশাহী-০৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে অনড় লিজা আক্তার আয়েশা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ২/৩ দিন ধরে সরব তিনি। বিয়ের কাবিননামা ও অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে নিজেকে এখনো বৈধ স্ত্রী দাবি করছেন। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর অধিকার পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন লিজা।
সোমবার দুপুরে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দেন- ‘আপনারা সবাই ভাবছেন আমি থেমে গেছি। আমি থেমে যাই নাই সংসদ সদস্যের ভক্তরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে দেওয়া হবে এমন বলছেন। এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গতকাল আমাকে বলেছেন, ‘আমি গণমাধ্যমে এসেছি তাই আমাকে আজ উনি ডিভোর্স দিবেন।

সব মিলিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তবে আমি থেমে নেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর কাছে যাবো এবং এর বিচার চাইবো। আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন পাশে থেকেছেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
আরেকটি পোস্টে লিজা আক্তার লিখেন- ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তাঁর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোন প্রচারণা করার উদ্দেশ্যে কিছু করছি না আমি আওয়ামী লীগকে মনে প্রাণে ভালোবাসি সেই জন্যই মাননীয় সংসদ সদস্যকে বিয়ে করেছি এবং আমি মনে করি তাকে বিয়ে করে আমিও এই আওয়ামী লীগের একটা অংশ হয়েছি, আমি এই দলকে মনে প্রাণে ভালোবাসি, আমি জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি আমি দলের বিপক্ষে যেতে পারি না দলের ক্ষতি হবে এমন কোন কাজ আমি কখনোই করতে পারি না।। আমি বাংলা দেশের নাগরিক জননেত্রী আমার মা আমি একটা সাধারণ মেয়ে হিসেবে আমি কি সুবিচারের আশা করতে পারি না?? আমি আমার সংসার চাই আমি আমার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জয়ী হতে চাই কোন কুচক্রী মহল আমাকে এইগুলো লিখতে বলে নাই আমি আমার নিজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমেছি। সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা এইটাকে দলের বিপক্ষে নিউজ ভাববেন না এবং অপপ্রচার মনে করবেন না। প্রয়োজনে আমি জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো এবং আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইবো। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশে সবসময়ই আছেন এবং থাকবেন আমি এইটা বিশ্বাস করি, মহান নেত্রী একজন ভিক্ষুককে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ছিলেন উনি আমার জন্যেও সুবিচারের ব্যবস্থা করবেন ইনশা আল্লাহ্‌।’
ওই নারীর বাড়ি নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়। এরআগে তার সঙ্গে এমপি এনামুলের একাধিক অন্তরঙ্গ ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। যা নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। তবে লিজার সঙ্গে তালাক হয়েছে বলে দাবি করেছেন এমপি এনামুল।
গত শনিবার লিজা আক্তার আয়েশা নামের ওই নারী প্রথম ফেসবুকে লিখেন, এমপি সাহেবের রক্ষিতা বা প্রেমিকা নই দ্বিতীয় বউ আমি।’ আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এমপি সাহেব আমার হাজবেন্ড এই কথাটা যদি কারো কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয় তাঁরা বিয়ের কাগজ দেখতে পারেন।’
এর দুই ঘণ্টা পরে আরেকটি পোস্টে লিখেন, ‘একজন সংসদ সদস্য অনেক বড় অবস্থানের মানুষ। তাঁর বিরুদ্ধে চাইলেই কেউ মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না। আমার কথাগুলো যদি মিথ্যা হইতো তাহলে এতক্ষণে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যেতো। আমি যা কিছু বলছি এবং বলবো সব সত্যি। আপনারা আমাকে বিরক্ত না করে ধৈর্য ধরে পাশে থাকুন।’ এরপর এমপি এনামুলের সঙ্গে একাধিক ছবিও পোস্ট করেন লিজা।
লিজা আরেকটি পোস্টে লিখেন, ‘২০১৮ সালের ১১ই মে আমাদের বিয়ে হয়। প্রথমে আট বছর আগে আমাদের বিয়ে হয় মৌখিকভাবে। তার বাগমারার বাড়িতে। কিন্তু লিখিত বিয়ের পর গত দুই বছর ধরে তিনি আমাকে গোপনে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আসছেন। এখন তিনি একটি ভুয়া কাগজ করে আমাকে তালাক দিয়েছেন। সেখানে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ কারণে আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমি ফেসবুকে এসব কথা বলেছি। আমি আমার সংসার করতে চাই আমার স্বামীর সঙ্গে।’
এ বিষয়ে মোবাইলে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এমপি এনামুল হক ফোন রিসিভ করেন নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমার একসময়ে বিয়ের সম্পর্ক ছিল ওই নারীর সঙ্গে। এখন নাই। তাকে সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধ করেছি আমি। কিন্তু তারপরেও সে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। আমিও আইনের আশ্রয় নিব।’
এদিকে লিজা আক্তার আয়েশার মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে এমপি সাহেবের সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু নমিনেশন পেতে সমস্যা হতে পারে বিধায় বিয়ের ভিডিও এবং ছবি আমার কাছে রাখে। কিন্তু তখন রেজেস্ট্রি করা হয়নি। বিয়ের দুই বছর পর ২০১৫ সালে আমি বেবী কনসিভ করি, উনি আমাকে বলে নির্বাচনের আগে উনি বাচ্চা নিতে পারবেন না নির্বাচনের পর নিবেন; সেইটাও মেনে নিই। পরে ১১/৫/২০১৮ইং তারিখে পুনরায় বিয়ে করে আমাদের বিয়ে রেজেস্ট্রি করি। এমপি সাহেব বলেছিলেন নির্বাচনের পর উনি আমাকে স্বীকৃতি দিবেন, বাচ্চা দিবেন। আমি সে অপেক্ষায় এতোগুলো বছর বিয়ের কথা জনসম্মুখে নিয়ে আসেনি। এখন সুবিচারের আশায় জনগণের সামনে প্রকাশ করেছি। এমপি এনামুলের তালাক দাবির বিষয়ে বলেন, ‘না কোন তালাক হয় নি। আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্ত্রী কর্তৃক তালাক হয়েছে মর্মে একটি ভুয়া এফিডেভিটের ফটোকপি লোক মারফত আমার কাছে পাঠানো হয়। তবে গণমাধ্যমে বিয়ের কথা প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন। সামনে হয়তো ২/১ দিনের মধ্যে তালাক লেটার পাঠাতে পারেন।’     
তিনি আরো বলেন, ‘মহানগর পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি অভিযোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন। এজন্য আমি আজ (গতকাল সোমবার) বিকালে (বিকাল পৌনে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) তার বিরুদ্ধে জিডি করতে রাজপাড়া থানায় যাচ্ছি। অভিযোগ দায়েরের পর যদি বেঁচে থাকি তাহলে আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সমস্ত প্রমাণাদি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করব।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman