চাচাত বোনকে ডেকে নিয়ে ছয় বন্ধু মিলে ধর্ষণ

চাচাত বোনকে ডেকে নিয়ে ছয় বন্ধু মিলে ধর্ষণ

•গ্রেফতার ৬

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশেষ প্রয়োজনীয় আলাপের কথা বলে চাচাত বোনকে ডেকে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এমন ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই নারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় পুলিশ ধর্ষক ওই চাচাত ভাই ও তার পাঁচ বন্ধুসহ মোট ছয় ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে। ধর্ষণের শিকার নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ধর্ষণের ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করার কথা রয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন কল্যাণপুর হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের পেছনে পরিত্যক্ত খালি জায়গায় ঘটনাটি ঘটে।

মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক নাসির উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, বুধবার রাতে ওই তরুণী থানায় মামলা করতে আসেন। তার মুখে বিস্তারিত ঘটনা শোনা হয়। এরপর মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন শেষে ঘটনার সত্যতা মেলায় ওই তরুণীর করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক সৈয়দ আকতার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, ওই তরুণী পরিবারের সঙ্গে ঢাকার দারুসসালাম থানাধীন গাবতলী এলাকায় থাকেন। তিনি ওই এলাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। ওই তরুণীর চাচাত ভাই গ্রেফতারকৃত রায়হান। রায়হানের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেম চলছিল। নানা কারণে গত দুই মাস ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ নেই। এ বিষয়ে রায়হান বার বার ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করে আসছিল। এমনিতেই তাদের মধ্যে কথাবার্তা হলেও প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে কথাবার্তা বন্ধ ছিল।

বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই তরুণী গার্মেন্টসের কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় রায়হান তাকে মোবাইলে কল করে। মোবাইলে কথাবার্তার এক পর্যায়ে রায়হান ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে চায়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় জরুরী কথা আছে বলে জানায়। ওই তরুণীকে নানাভাবে অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে তরুণী কথা বলতে রাজি হয়। তারা দু’জনে হাউস বিল্ডিংয়ের পেছনের খোলা খালি জায়গায় যায়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে রায়হান কৌশলে মোবাইল ফোনে তার বন্ধুদের ডাকে। এরপর রায়হানের পাঁচ বন্ধু সেখানে হাজির হয়। এক পর্যায়ে ছয় জন মিলে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে তরুণী অনেকটাই অচেতন হয়ে যান। জ্ঞান ফিরলে আস্তে আস্তে ওঠেন। এরপর তিনি যান দারুস সালাম থানায়। থানা পুলিশ পুরো ঘটনাটি শুনে মিরপুর থানাকে জানায়। পরে ওই নারী মিরপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। প্রাথমিক তদন্তেই ঘটনার সত্যতা মেলে। মামলা দায়েরের পর ওই তরুণীর চাচাত ভাই রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য মোতাবেক তার বন্ধু ইমন, আবু সাইদ, আলামিন, জয় মিয়া ও ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তারা একেক সময় একেক কাজ করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জয় ও ইমরান কল্যাণপুর পোড়া বস্তিতে থাকে। তারা যখন যে কাজ পায়, তাই করে। তারা মাদকাসক্ত কিনা বা চুরি ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ওই নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ বিলকিস বেগম জনকণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই তরুণীকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ধর্ষণের আলামতসহ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আনুষঙ্গিক কাজ শেষে তাকে রাতেই ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তরুণীকে চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিকভাবে সাহস দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman