তাইওয়ান আলাদা ‘দেশ’ নয়, ভারতের মিডিয়াকে চীনের হুঁশিয়ারি

তাইওয়ান আলাদা ‘দেশ’ নয়, ভারতের মিডিয়াকে চীনের হুঁশিয়ারি

(COMBO) This combination of file pictures created on September 29, 2020 shows US President Donald Trump (L) and Democratic Presidential candidate former Vice President Joe Biden squaring off during the first presidential debate at the Case Western Reserve University and Cleveland Clinic in Cleveland, Ohio. - Trump, who is still being treated for Covid-19, said on October 8, 2020, he will refuse to take part in the presidential debate on October 15 after it was switched to a virtual format. "I'm not going to do a virtual debate," he told Fox Business News, saying this was "not acceptable to us." (Photos by JIM WATSON and SAUL LOEB / AFP)

ভারতের চীনা দূতাবাস এক নজিরবিহীন চিঠি পাঠিয়ে সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, তারা যেন তাদের দেশের সরকারের অনুসৃত ওয়ান চায়না' বাএক চীন’ নীতি থেকে বিচ্যুত না হয়।

তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের মাত্র দিনতিনেক আগে পাঠানো ওই চিঠিতে ভারতের মিডিয়াকে চীন বলেছে, তাইওয়ানকে যেন কিছুতেই একটি আলাদা দেশ' বলে উল্লেখ না-করা হয় এবং তাইওয়ানের নেতাকেও যাতেপ্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত না-করা হয়।

গত কয়েক মাস ধরেই ভারত-চীন সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা চলছে, জুন মাসে লাদাখে চীনা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণও হারিয়েছেন।

তার মধ্যেই এই প্রথমবারের মতো চীনের পক্ষ থেকে ভারতীয় মিডিয়াকে এই ধরনের চিঠি দেয়া হল।

দিল্লিতে চীনা দূতাবাসের প্রেস সেকশন থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, তাইওয়ান ‘চীনের সার্বভৌম ভূখন্ডের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ’।

উনিশশো এগার সালের এই দিনটিতেই সেখানে য়ুচাং সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল, যার মাধ্যমে চিং রাজবংশকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে ‘রিপাবলিক অব চায়না’র জন্ম হয়।

তাইওয়ানের সেই জাতীয় দিবস উদযাপনের ঠিক তিনদিন আগে, বুধবার ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের কর্ণধার বা সাংবাদিকরা চীনা দূতাবাসের কাছ থেকে ওই চিঠি পেয়েছেন।

মাসতিনেক আগেও ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সুন ওয়েডং-ও ভারতীয় মিডিয়াকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারির সুরেই বলেছিলেন, তারা যেন ভারতকে ‘এক চীন’ নীতির পুনর্বিবেচনা করার জন্য সওয়াল না-করে।

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পরই ভারতীয় মিডিয়ায় লেখালেখি শুরু হয়েছিল, চীনকে চাপে ফেলতে দিল্লির উচিত তাইওয়ানের সাথে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো।

তবে ‘এক চীন’ নীতি মানাটা বেজিংয়ের কূটনীতির এক কঠোর শর্ত – যে সব দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখাতেই চীন বিশ্বাস করে না।

এই পরিপ্রেক্ষিতেই চীনা রাষ্ট্রদূত সুন ওয়েডং জুলাই মাসে এক ওয়েবিনারে মন্তব্য করেন, ‘তাইওয়ান, হংকং বা দক্ষিণ চীন সাগরে সীমান্ত বিরোধ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে – যা আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে।’

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের একটি খবরের কাগজ এ দেশে নিযুক্ত তাইওয়ানের প্রতিনিধির (যাকে ‘রাষ্ট্রদূত’ বলা হয় না) এক সাক্ষাৎকার ছাপার পর চীনা দূতাবাস তারও তীব্র সমালোচনা করেছিল।

ভারতের সঙ্গে তাইওয়ানের এই মুহুর্তে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

তবে দিল্লি ও তাইপেই-তে দুপক্ষেরই ‘বাণিজ্যিক কার্যালয়’ বা ট্রেড অফিস আছে, যা কার্যত পরস্পরের দূতাবাস হিসেবেই কাজ করে।

এদিকে চীনা দূতাবাসের চিঠি পাওয়ার পর ভারতের বড় বড় মিডিয়া হাউস বা সংবাদপত্র গোষ্ঠীগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিবিসি জানতে পেরেছে, তাইওয়ানের জাতীয় দিবসে (১০ই অক্টোবর) এবার দিল্লির বিভিন্ন খবরের কাগজেই তাদের পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেওয়ার বা বিজ্ঞাপনী ক্রোড়পত্র সংযুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।

কোভিড মহামারীতে আর্থিক সঙ্কটে থাকা সংবাদপত্র শিল্পের জন্য সেই বিজ্ঞাপন খুব প্রয়োজনীয় কোনো সন্দেহ নেই।

অন্য দিকে, চীনের হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করলে ভারতে সক্রিয় নানা মোবাইল ফোন-সহ চীনা কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন তাদের হারাতে হতে পারে, এটাও মিডিয়া হাউসগুলোকে খেয়াল রাখতে হচ্ছে।

সূত্র : ইউএনবি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman