দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দক্ষিণাঞ্চলের সব সড়কের মাস্টার প্ল্যান করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য বলেন, পদ্মা সেতু হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে একটা নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে। তিনি বলেন, সে কারণে দক্ষিণাঞ্চলের পুরো এলাকার মাস্টার প্ল্যান করুন। কী কী রাস্তাঘাট আছে, সেগুলোতে অনেক ভারী যানবাহন যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সেটা করা উচিত। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন যে, এভারেজ ডেইলি ট্রাফিক অনেক বেড়ে যাবে। এটা বাড়ছেই। এখন থেকেই পুনর্গঠনের, পুনর্নিমাণের ও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করতে হবে। পদ্মা সেতু হলে এ এলাকায় গতিশীলতা বাড়বে।

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্ব করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের সামনে এ তথ্য তুলে ধরেন।

আজকের একনেকে কৃষি মন্ত্রণালয় ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য এবং যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন এর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জানতে চেয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হওয়ার কারণ কী? তিনি জানতে চেয়েছেন প্রকল্প পরিচালক কে? প্রকল্প পরিচালক উপস্থিত ছিলেন না। সেখানকার সচিবও মনে হয় নতুন। তিনিও এর তেমন একটা উত্তর দেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। সব প্রকল্পে এরকম দেরি হয় কেন? এটা ছোট টাকার প্রকল্প। এটা তো এতদিন লাগার কথা নয়। যখন প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা তখন আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়াচ্ছেন কেন? এ সময় বাড়ানোর জন্য ৬৮ কোটি টাকাকে এখন ১০৯ কোটি বানালেন। এটা নিয়ে পর্যালোচনা করুন। প্রকল্প পরিচালকদের ডাকুন। সব প্রকল্প যেন যথাসময়ে শেষ হয় সেই ব্যবস্থা নিন। কেন বিলম্ব হচ্ছে সেটার কারণ অনুসন্ধান করুন।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ (জেড-৮৭০১)’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধনীতে ৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ১০৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন এই প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখানেও বলেছেন ২০১৭ সালে এক বছরের জন্য প্রকল্প নিলেন, এ প্রকল্প এতদিন লাগা উচিত হয়নি। এটা তো পুরোনো সড়ক ছিল। এটা তো আপনারা তুলে ফেলতে পারতেন। এত দীর্ঘ সময় কেন লাগলো? আবার সংশোধন, আবার টাকা বাড়ানো– এ ধরনের ধারা বন্ধ করুন। প্রকল্প যে সময়ে নেবেন, সে সময়ে শেষ হওয়া উচিত। সময় আরও বাড়িয়ে নিয়ে আসেন, ব্যয়ও আরও বাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এটা আর হতে পারে না। এখন ২০২১ সাল পর্যন্ত নিয়েছেন, এটাই শেষ। এরপর আর বাড়াতে পারব না। যখন যে প্রকল্প হবে, তা যথাসময়ে শেষ করবেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যথেষ্ট জোরের সঙ্গে এই কথা বলেছেন।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman