বাসের দরজা বন্ধ করে কলেজছাত্রীর ওপর হামলে পড়ে রশিদ

বাসের দরজা বন্ধ করে কলেজছাত্রীর ওপর হামলে পড়ে রশিদ

বাসে কোনো যাত্রী ছিল না। কলেজছাত্রীটি তখন একাই যাত্রী। বিকাল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা। ওই কলেজছাত্রীর ওপর চোখ পড়ে বাসের হেলপার রশিদের। সে দরোজা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। এরপর ওই কলেজছাত্রীর কাছে গিয়ে টানা- হেঁচড়া করে। ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে সায় দিচ্ছিলো চালকও।

এক পর্যায়ে মেয়েটি বাস থেকে লাফ দিয়ে পড়ে সম্ভ্রম বাঁচায়। এমন ঘটনায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে যখন তোলপাড় চলছিলো তখন নিজেদের রক্ষা করতে এলাকা ছেড়ে পালায় চালক, হেলপার সহ ঘটনাকারী তিনজন। আলোচিত এ ঘটনায় দিরাই থানায় মামলা দায়ের করার পর সিলেটের পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের তরফ থেকে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। নেয়া হয় প্রযুক্তির সহযোগিতা। তদন্তকালে পিবিআই ঘটনার অনেক কিছু জেনে যায়। তবে বার বার স্থান বদল করার কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিলো না। অবশেষে সিলেটের পিবিআই সোমবার ভোররাতে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকার একটি গ্রাম থেকে বাসের হেলপার রশিদ আহমদকে গ্রেপ্তার করে। আলোচিত এ ঘটনার মূল নায়ক হচ্ছে রশিদ। সে যখন ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তখন ওই কলেজছাত্রী দরোজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলো। বাস থামিয়ে তাকে নামিয়ে দিতে বার বার অনুরোধ করছিলো। কিন্তু রশিদ তার কথায় কান না দিয়ে বাসের দরোজা বন্ধ করে দিয়েছিলো। রশিদকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে সিলেটের পিবিআই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলপার রশিদ আহমদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দিরাই থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বিকালেই তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘শনিবার সন্ধ্যার দিকে দিরাই সড়কের চলন্ত বাসে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিলো। এ ব্যাপারে দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে সিলেটের পিবিআই আলোচিত এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। সোমবার ভোররাতে তাকে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বুরাই গ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ দিরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই বাসের চালক, হেলপার সহ তিনজন দিরাই থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের ধরতে অভিযান চালালেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। মূল আসামি রশিদ গ্রেপ্তার হয়েছে। তার কাছ থেকে আলোচিত এ ঘটনার সব কিছু জানা যাবে। খোঁজা হচ্ছে বাসের চালককে। ইতিমধ্যে পুলিশ চালকের ব্যাপারে তথ্য পেয়েছে। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। এদিকে বাস থেকে লাফিয়ে গুরুতর আহত হওয়া ওই কলেজছাত্রীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ার কারণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। মাথায়ও গুরুতর জখম হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দিরাইয়ে সুজানগর এলাকার রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় ওই কলেজছাত্রীকে পাওয়া গিয়েছিলো। তবে, তাৎক্ষণিক তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। মেয়েটিকে তারা প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর মেয়ের মুখ থেকে ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাত ১টা পর্যন্ত দিরাইয়ে মানুষ রাজপথে ছিলেন। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা ঘরে ফিরে যায়। এমন ঘটনা দিরাইবাসীকে কলঙ্কিত করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হাসপাতালে ভর্তি ওই কলেজছাত্রীর বক্তব্য ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে পুলিশ। হাসপাতালে গিয়েই পুলিশের একটি দল কলেজছাত্রীর বক্তব্য রেকর্ড করে। ওই কলেজছাত্রী জানিয়েছে, সে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার বড় বোনের বাসায় সিলেটে এসেছিলো। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে শনিবার দুপুরের পর তার দুলাভাই তাকে দিরাইগামী বাসে তুলে দেন। বাসযাত্রীদের নিয়ে দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার পর একাধিক স্থানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। সন্ধ্যার একটু আগে বাসটি গিয়ে পৌঁছে দিরাই রাস্তার নোয়াখালী বাজারে। সেখানে বাস থেকে সে ছাড়া সব যাত্রী নেমে যান। এ সময় বাসে একাই যাত্রী ছিল সে। এরপর থেকে হেলপার, সুপারভাইজার ও চালক তাকে উদ্দেশ্য করে নানা অশ্লীল বাক্য ছুড়ে। এক পর্যায়ে হেলপার সহ আরো একজন তাকে ধরে টানাটানি করে। এ সময় বাস থেকে নামতে চাইলে তারা দরোজা বন্ধ করে দেয়। সুজানগর এলাকায় পৌঁছামাত্র বাসের দরোজা খুলে চলন্ত অবস্থায় বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে বলে জানায় ওই কলেজছাত্রী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman