দুই ভাইয়ের ধর্ষণে গর্ভবতী কিশোরী গৃহকর্মী

দুই ভাইয়ের ধর্ষণে গর্ভবতী কিশোরী গৃহকর্মী

দুইভাইয়ের ধর্ষণের শিকার কিশোরী গৃহকর্মী অন্যত্র সংসার পেতেছেন বাবা। মা ওমান প্রবাসী। ভাই-বোনহীন নিঃস্ব ১৪ বছর বয়সের এক কিশোরী বেচে নেন গৃহকর্মীর কাজ। তবে যে ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই আর পেটে খাবার দেওয়ার মতো ভরসাস্থল খুঁজে নিল সে ঘরেই দিনের পর দিন দুই ভাইয়ের ধর্ষণের শিকার হলো সে।

এরমধ্যে বড় ভাই জিয়াউল হক ধর্ষণ করতো চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় ভাড়া বাসায়। আর ছোট ভাই শহীদুল ইসলাম ধর্ষণ করত বাঁশখালী উপজেলার গ্রামের বাড়িতে। তারা চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মকসুদুল হকের ছেলে। তাদের ধর্ষণে গর্ভবতি হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। এরমধ্যে একভাই তার গর্ভপাত ঘটালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ধর্ষিতাকে বাদি করে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। অবশ্যই এর আগের দিন মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বাঁশখালী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজগর হোসেন শালীস বৈঠকে বসেন।

সেখানে ধর্ষিতার স্বীকারোক্তি মোতাবেক দুই ভাইয়ের ধর্ষণের কথা জানাজানি হলে কাউন্সিলর শহীদুল ইসলামকে পুলিশে সোপর্দ করে। বাঁশখালী থানার মামলায় শুধুমাত্র তাকেই আসামি করা হয়। বাইরে থেকে যায় জিয়াউল হক।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হক বলেন, ধর্ষক জিয়াউল হক নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকা ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। সে কারণে ওই ধর্ষকের মামলা বাকলিয়া থানায় করতে হবে। তাই এজাহারে জিয়াউল হককে আসামি করা হয়নি। শুধুমাত্র শহীদুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

গর্ভপাতের সাথে জড়িত নার্গিস আক্তার নামে এক নারীকে এ মামলায় এক নম্বর সাক্ষি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আর এ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর, বাঁশখালীসহ দক্ষিণ জেলার ৭ উপজেলার মানুষের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।    

এসআই নাজমুল হক জানান, ১৪ বছর বয়সী ধর্ষিতা ওই কিশোরীর বাবা কয়েক বছর আগে তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র সংসার পাতেন। অন্যদিকে অভাবের সংসারে কিশোরীর মা গৃহপরিচারিকার কাজ নিয়ে চলে যান ওমানে। বাবা-মা হারা কিশোরীটি একা হয়ে পড়লে এবাড়ি-ওবাড়ি কাজ করে পেট চালাতে তাকে। ছয় মাস আগে বাঁশখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লস্করপাড়ার মকসুদুল হকের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন।

মকসুদুল হকের দুই ছেলে শহীদুল ইসলাম ও জিয়াউল হকের ধর্ষণে ওই কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বাঁশখালীর স্থানীয় ছৈয়দুল আলম নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী নার্গিস আক্তারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) কিশোরীর গর্ভপাত ঘটানো হয়।

এ ঘটনার কথা প্রকাশ হয়ে পড়লে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে বাঁশখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর আজগর হোসেনের মিয়াবাজারের ব্যক্তিগত শালিস কেন্দ্রে সালিশি বৈঠক বসে। কিন্তু ধর্ষক দুই ভাইকে পুলিশে না দিয়ে সালিশি বৈঠক বসানোর ঘটনায় গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানালে নিরুপায় হয়ে কাউন্সিলর আজগর পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ধর্ষক শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করলেও তার ভাই অপর ধর্ষক জিয়াউল হক পালিয়ে যায়।

এসআই নাজমুল হক বলেন, গৃহকর্তার দুই ছেলে ৬ মাস ধরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসছিল একে অন্যের অজান্তে। গৃহকর্তার এক ছেলে তাকে ধর্ষণ করতেন চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার ভাড়া বাড়িতে এবং অপর ছেলে ধর্ষণ করতেন বাঁশখালীর গ্রামের বাড়িতে। এক ভাইয়ের ধর্ষণের ঘটনা অপর ভাই জানতেন না। বাবা-মা হারা কিশোরীটি এভাবে গত ৬ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছিল। এর একপর্যায়ে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ার পর তার গর্ভপাত করানো হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman