দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী সংসদ অধিবেশন শনিবার

দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী সংসদ অধিবেশন শনিবার

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের মধ্যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী এক সংসদ অধিবেশন বসতে চলেছে শনিবার (১৭ এপ্রিল)। একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম ও একদিনের এ অধিবেশনটি দেশের ইতিহাসে স্বল্পতম সময়ের অধিবেশনের রেকর্ড গড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধুমাত্র সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কারণে করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগেও সংসদের সপ্তম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এক অধিবেশন শেষ হওয়ার পর অনধিক ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পরের অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে সর্বশেষ ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের এ অধিবেশন আহ্বানের করা ছাড়া আর কোন বিধান ছিল না।

শনিবার বিকেল ৫ টায় একাদশ জাতীয় সংসদের এ সপ্তম অধিবেশনটি শুরু হয়ে সিটিং এমপি ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে মূলতবি হবার রেওয়াজ রয়েছে। তবে শরীফের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রীসহ দুই একজন সিনিয়র সদস্য বক্তব্য দিতে পারেন।

এ অধিবেশনে সাংবাদিক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতির সুযোগ থাকছে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও সীমিত করা হবে। উপস্থিত সংসদ সদস্যরাও করোনা ভাইরাসের সতর্কতা নির্দেশনা মেনেই সংসদ অধিবেশনে অংশ নিবেন। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ সকল তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কারণে আহ্বান করা এই অধিবেশন খুবই স্বল্প সময়ের জন্য বসবে। অধিবেশনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া নির্দেশনা মেনে চলা হবে। দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণসহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অধিবেশনে উপস্থিতি কম থাকবে। তবে ঢাকা ও রাজধানীর আশপাশের ৬০-৭০জন এমপিতে উপস্থিত থেকে অধিবেশনের কোরাম সংকট কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে । সংসদ সদস্যদের বসার বিষয়ে দুরত্ব বজায় রাখা হবে।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সবার জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সংসদ অধিবেশন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হবে। এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের সরাসরি সংসদে না এসে স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে বাংলাদেশ সংসদ টেলিভিশন থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত অধিবেশন কাভার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার ভয়াল থাবার কারণে একাদশ সংসদের সপ্তম অধিবেশন দেশের ইতিহাসে একেবারেই ব্যতিক্রমী হবে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যসহ অন্যান্যদের শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য অধিবেশন চালানোর জন্য হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থাকবেন। দর্শনার্থীদের উপস্থিত নিষিদ্ধ থাকছে। মন্ত্রী-এমপিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সাউন্ড সিস্টেম, সংসদ টেলিভিশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিও কমাতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই অধিবেশন আয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman