নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নেই স্বয়ং মোদির

নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নেই স্বয়ং মোদির

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে। অথচ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেই নেই নিজের নাগরিকত্বের কোনো প্রমাণপত্র। তথ্য অধিকার আইনে (আরটিআই) করা এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে এমনটাই জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দপ্তর। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক হওয়ায় নাগরিকত্বের প্রমাণ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো সুযোগ নেই।

গত ১৭ জানুয়ারি শুভঙ্কর সরকার নামের এক ব্যক্তি আরটিআইয়ের মাধ্যমে জানতে চান, প্রধানমন্ত্রীর নাগরিকত্বের কাগজপত্র রয়েছে কি না। উত্তরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সচিব প্রবীণ কুমার স্বাক্ষরিত জবাবে জানানো হয়, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী জন্মসূত্রেই ভারতীয়। এ কারণে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব সনদ তাঁর রয়েছে কি না, সে প্রশ্নই ওঠে না।

এ–বিষয়ক প্রথম খবরটি প্রকাশ করে হায়দরাবাদের উর্দু দৈনিক সিয়াসত। সেখানে বলা হয়, প্রবীণ সাংবাদিক সিমি পাশা সংশ্লিষ্ট আরটিআই ও তার উত্তরের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাগরিকত্ব নিবন্ধনের প্রয়োজন না থাকে, তবে অন্যদের কেন থাকবে?

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এ জবাবকে ‘অস্পষ্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট।

তথ্য অধিকার আইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র চেয়ে করা আবেদন ও প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের উত্তর। ছবি: টুইটারের সৌজন্যেসিএএ নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং দিল্লির অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে নরেন্দ্র মোদির নাগরিকত্ব নিয়ে করা আরটিআই ও তার জবাব এক নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কারণ, এর আগে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। দশকের পর দশক ভারতের অধিবাসী হলেও শুধু নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি বলে আসামের অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে বন্দিশিবিরে। নাগরিকত্ব সনদের ক্ষেত্রে কোনো কথা শুনতে চায়নি প্রশাসন। এখন মোদির মতো করে কেউ যদি দাবি করেন তিনিও জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক, তাহলে তা গ্রাহ্য করা হবে কি না—সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

বিতর্কের শুরু থেকেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে ২০১১ ও ২০১৫ সালের জাতীয় জনগণনা পঞ্জি প্রক্রিয়ার পর দেওয়া পরিচয়পত্র যাঁদের কাছে নেই, তাঁরা নাগরিক নন। দেশের মানুষের বড় অংশের কাছেই সেই পরিচয়পত্র নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো যুক্তিই আমলে নেয়নি দেশটির বর্তমান বিজেপি সরকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman