নেশার টাকার জন্য মাকে খুন করে মাদকাসক্ত রাসেল

নেশার টাকার জন্য মাকে খুন করে মাদকাসক্ত রাসেল

দুই সন্তানের জনক কাজল রেখা ও আবদুর রহমান দম্পতি। অভাবের সংসার হলেও বড় ছেলে ও ছোট মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার হওয়ার কথা ছিল এ দম্পতির? তবে সেখানে বাধ সাধে মাদক। একমাত্র ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় শুরু হয় সংসারে চরম অশান্তি। মাদক ইয়াবা ও গাঁজার টাকার জন্য প্রতিদিনই পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা করে ছেলে। ভাংচুর থেকে শুরু করে মারামারি।

তবু মায়ের মন মানে না। একমাত্র ছেলেকে কয়েকবার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রেও পাঠান তিনি। ফিরে একই অবস্থা। একদিন মাত্র মাদকের ২০০ টাকা না দেয়ায় ছোট বোন মুক্তির সামনেই মাকে শাবল দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করে খুন করে ফেরারী হয় ছেলে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত মাজারে আত্মগোপন করে সে। পরে দীর্ঘ প্রায় ১ বছরের চেষ্টায় মায়ের ঘাতক রাসেলকে (২৭) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ভোরের কাগজের সঙ্গে আলাপকালে বুধবার (১১ মার্চ ) কথা জানান মিরপুর পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ফিরোজ কাওছার।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, গত বছরের ৩ জানুয়ারি, পল্লবীর বাউনিয়াবাদ স্লুইসগেট এলাকার একটি বাসায় নিজের ছেলের হাতে খুন হন মা কাজল রেখা (৪৮)। এ ঘটনায় পরের দিন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। ঘটনার পর ঘাতক রাসেল পালিয়ে যায়। পরে তার খোঁজে দীর্ঘ ১ বছর ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল পল্লবী থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাসেলের সন্ধান জানতে পারি। সে সময় তার দাড়ি ও বড় চুল সম্বলিত একটি ছবি দেখালে পরিবারকে তাকে চিনতে পারছিল না। তাই নিহত নারীর বড় ভাইকে নিয়ে নেত্রকোনা জেলার মদনপুরের শাহ সুলতান মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ মাস পর রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা। তিনি আরো বলেন, মামা শনাক্ত করা ছাড়াও আটক ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করে তিনিই রাসেল। নেশার টাকা না দেয়া মাকে শাবল দিয়ে গুতিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় সে।
ফিরোজ কাউছার আরো বলেন, মাকে খুনের কথা খুব সাবলীল ভঙ্গিতেই স্বীকার করেছে রাসেল। এ নিয়ে তাকে কোনো অনুশোচনাবোধ দেখা যায়নি। এই ১৪ মাস তিনি ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কুষ্টিয়া ও সিলেটে পালিয়ে ছিল। ওইসব এলাকার মাজার কেন্দ্রিক জায়গাগুলোতে লুকিয়ে ছিল সে। দাড়ি ও চুলও বড় করেছিল যাতে চেনা না যায়। ওইসব এলাকাতেও চুরি করে নেশার টাকার জোগাড় করতো বলে জানায় রাসেল। এই কারনে ওই এলাকায় অনেকবার গণপিটুনিও খায় সে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চুরি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য রাসেলকে শীঘ্রই আদালতে হাজির করার কথাও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। ডিসি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman