পদ্মাসেতু ২৯তম স্প্যান বসল, দৃশ্যমান ৪৩৫০ মিটার

পদ্মাসেতু ২৯তম স্প্যান বসল, দৃশ্যমান ৪৩৫০ মিটার

পদ্মাসেতুর ২৯ তম স্প্যান (আইডি-৪এ) বসেছে। সোমবার সকালে মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১৯ ও ২০তম পিলারের উপর স্প্যানটি বসানো হয়েছে। ২৩ দিনের ব্যবধানে পদ্মা সেতুর ওপর বসলো এই স্প্যান।

এদিকে ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ২৯তমটি বসানো হলো। বাকি রয়েছে আর ১২টি স্প্যান। চলতি মাসের মধ্যে আরো একটি স্প্যান বসনো হতে পারে।

স্প্যান বসানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, সকাল পৌনে ১১টায় ২৯তম স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এবং এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো ৪.৩৫ কিলোমিটার।

রোববার সকাল ৮টার দিকে স্প্যানটিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ার কাছে কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৯ ও ২০ নং পিলারের নিকট। ২৯তম স্প্যানের মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর চার হাজার তিন শ’ ৫০ মিটার। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো: আব্দুল কাদের।

২৯তম স্প্যাটি বসায় বাকি থাকলো ১২টি স্প্যান। সংশোধিত সিডিউল অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মধ্যে সব স্প্যান খুঁটিতে বসে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা মনে করছেন নির্ধারিত সময়ের আগেই আগস্টের মধ্যে খুঁটির ওপর সব স্প্যান বসে যাবে। দ্বিতল সেতুর ওপরে থাকবে সড়কপথ আর নিচে থাকবে রেলপথ, যা এখন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি দ্বিতল হবে, যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন’।

তারা আরো জানায়, চীন থেকে স্প্যানের একটি বড় চালান এখন বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এটি এখন মোংলায় রয়েছে। ২-১ দিনের মধ্যে এটি মাওয়ায় পৌঁছে যাবে। এই চালানটির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা চলছিল। ২৭ মার্চ চালানটি সমুদ্র পথে রওনা হয়। সেতুর ৪১টি স্প্যানের ৩৯টি স্প্যানই মাওয়ায় পৌঁছেছে অনেক আগে। কিন্তু বাকি থাকা দুটি স্প্যান নিয়েই নানা শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ প্রথম চীনে করোনার শুরু হওয়ায় এই স্প্যান দুটি নিয়ে দায়িত্বশীলরা ভাবনায় পড়েন। পরবর্তীতে চীনের করোনা সঙ্কট কেটে যাওয়ার পর স্প্যান দুটির ফিনিশিং কাজ শেষ করে বড় এই চালানটি রওনা হয়। সর্বশেষ স্প্যান দুটি ২৩০ খণ্ডে বিভক্ত। এর মধ্যে ২৭ মার্চ রওনা হওয়া বড় চালানটিতে ১৯৩টি খণ্ড রয়েছে। বাকি ৩৭টি খণ্ড নিয়ে আরেকটি ছোট চালান রওনা হচ্ছে ৫ মে। এটিই স্প্যানের সর্বশেষ চালান। এর মধ্য দিয়েই চীনে তৈরি করা সেতুর স্টিলের তৈরি স্টাকচার (স্প্যান) আসা শেষ হচ্ছে। সেতুর এই স্প্যান তথা স্টাকচারের প্রতিটি ১৫০ মিটার দীর্ঘ। ৪১টি স্প্যানের ২৮টি খুঁটিতে স্থাপনও হয়ে গেছে। এতে সেতুর বড় অংশ অর্থাৎ ৪.২০ কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান হয়েছে। ২৯তম স্প্যান বসে যাওয়ায় দৃশ্যমান হলো ৪৩৫০ মিটার বা ৪.৩৫ কিলোমিটার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman