পূর্বপরিকল্পনা মতেই রাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি

পূর্বপরিকল্পনা মতেই রাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি

কয়েকমাস আগে পরিচয় ছাত্রীটির সঙ্গে মাহফুজুর রহমান সারদের। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম। এ পর্যন্ত থেমে থাকেনি সারদ। মেয়েটিকে কৌশলে নিয়ে যায় মেসে। ভিডিও ধারণ করার জন্য দ্বিতীয় দফা শারীরিক সম্পর্ক করতে পীড়াপীড়ি করে। রাজি না হওয়ায় বন্ধুদের সামনেই ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে সারদ। সেই ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে বন্ধুরা। এরপর দাবি করে ৫০ হাজার টাকা।

মাহফুজুর রহমান সারদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আর ছাত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

আদালতের কাছে রোববার এমনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তার এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনের মধ্যে দুই আসামি সারদের বন্ধু তারেক মাহমুদ জয় ও জীবন। এছাড়া সোম ও মঙ্গলবার সারদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মতিহার থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, সারদ ঠাণ্ডা মাথার অপরাধী। এর আগেও সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ। তিনি বলেন, বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে নিজের মেসে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে সারদ। পরে পূর্বপরিকল্পনা মতো পাশের কক্ষ থেকে তার পাঁচ বন্ধু আসে। তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ওই ছাত্রীর কাছে। এ সময় ওই ছাত্রী জানান, এ মুহূর্তে টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তখন দ্বিতীয়বার সারদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার চাপ দেয়। তখন সারদ ছাত্রীকে সবার সামনেই ধর্ষণ করে।

ওসি জানান, সারদের বন্ধুরা তখন তা নিজেদের ফোনে ভিডিও করে। এরপর  মেয়েটি সাড়ে তিন হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে বন্ধুদের কাছ থেকে নিয়ে  দেয় সারদকে। তাতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। পুরো ৫০ হাজার টাকাই তারা দাবি করে। পরে মেয়েটিকে রাতেই তারা ছেড়ে দেয়।

আসামিদের মধ্যে সারদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। আর তারেক মাহমুদ ওরফে জয় ও জীবন স্থানীয় তরুণ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিহার থানার এসআই আবদুর রহমান জানান, মাহফুজুর রহমান সারদ ঠাণ্ডা মাথার অপরাধী। এর আগেও সে এমন কাজ করেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রাবি ছাত্রী ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী মাহফুজ। পুলিশের কাছে সে প্রমাণও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মাহফুজসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জন একই মেসে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে থাকত। ২৪ জানুয়ারি রাতের ঘটনার পর তারা মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ৫ জনের ফেসবুকের পাতায় একই সঙ্গে ছবিও রয়েছে।
জানা যায়, মাত্র কয়েক মাস আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে মাহফুজের সম্পর্ক হয়। ঘটনার আগে মাহফুজ মেয়েটিকে নিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরাও করত।

ছাত্রীটি তার কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মির্জাপুর এলাকার হানুফার মোড়ের একটি মেসে থাকতো। ওই মেসের বাইরে মাহফুজ মাঝে মাঝেই মেয়েটির সঙ্গে দেখা করত। মাঝে মাঝে ধারের নাম করে মেয়েটির কাছ থেকে টাকা-পয়সাও নিত।

মাহফুজুর রহমানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড়িকান্দি উপজেলায়। তার বাবার নাম মাহবুবুর রহমান। আরেক অভিযুক্ত প্লাবন তারিক তালুকদারের বাড়ি জয়পুরহাট সদরে। রাফসানের বাড়ি রাজশাহীর বহরমপুরে। জয় ও জীবনের বাড়িও রাজশাহীতে। অন্যদিকে বিশাল নামের যে আসামিকে খুঁজছে পুলিশ তার বাড়িও রাজশাহীর মতিহারে।

উল্লেখ্য, ২৪ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলার সাকোপাড়ার একটি মেসে ওই ছাত্রীকে তার বন্ধু মাহফুজুর রহমান সারদ একাধিকবার ধর্ষণ করে। যা ভিডিও করে তার ৫ সহযোগী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman