পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকরা

পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকরা

স্বেচ্ছায় পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন অনেক মালিক। এক দিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, অন্য দিকে রফতানি আদেশ বাতিল করে দিচ্ছেন ক্রেতারা। কাজ না থাকায় শ্রমিকদের অলস বাসিয়ে না রেখে অনির্দিষ্টকালের ছুটি দেয়া হচ্ছে। কয়েকজন কারখানা মালিক জানিয়েছেন, রফতানি আদেশ বন্ধ হওয়ায় এমনিতেই বেতনভাতার অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর কাজ না থাকায় শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রেখে কারখানা চালু রাখলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ নানা ইউটিলিটি বিল দিতে হচ্ছে। এ কারণে অন্তত ইউটিলিটি বিল সাশ্রয় করতে কারখানা বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত দেইনি। তবে তার জানা মতে কাজ না থাকায় দু-একটি কারখানা স্বেচ্ছায় বন্ধ করেছেন মালিকরা। বাকিরা কারখানা চালু রেখেছেন। তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত তাদের ২০০ কোটি ডলারের ওপরে রফতানি আদেশ বাতিল হয়ে গেছে। তবে তিনি এ মুহূর্তে সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করেছেন। যেসব কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে সেগুলোর শ্রমিকদের বেতনের কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমই সভাপতি বলেন, বেতনের সময় এখনও আসেনি। তবে কোনো শ্রমিকের বেতন, বোনাস নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। সময় মতোই বেতন পাবেন শ্রমিকরা। এ ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আশ্বাস রয়েছে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে দেশের তৈরী পোশাক খাত। এ খাতের প্রধান বাজার ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। বলা যায়, এসব দেশে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের ৭০ ভাগ রফতানি হয়। এখন ওই দেশগুলো করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় ক্রেতারা রফতানি আদেশ বাতিল করে দিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের রফতানি খাতসহ অর্থনীতিতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারখানার মালিক বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে পোশাক খাতের অবস্থা ভালো ছিল না। রফতানি আয় প্রতি মাসেই কমে যাচ্ছিল। এর ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাবে তার সবগুলো রফতানি আদেশ প্রথমে স্থগিত ও পরে দু’দিনের মাথায় বাতিল করা হয়। ক্রেতা দেশগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করে দিয়েছে। অনেক অনুরোধ করার পরও বাতিল আদেশ স্থগিত করা হয়নি। এর ফলে তার কারখানার সব শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
তিনি আরো বলেন, এমনিতেই ব্যবসায় মন্দার কারণে মুনাফার মার্জিন কমে গিয়েছিল। কোনো মতে তিনি দিন পার করছিলেন। এর ওপর রফতানি আদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি চোখে অন্ধকার দেখছেন। সামনে রমজান মাস, বেতনভাতার সাথে শ্রমিকদের বোনাসও দিতে হবে। কারণ শ্রমিকরা তার প্রাণ। তাদের কারণেই তিনি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে পোাশাক রফতানি করতে পারেন। এ কারণে শ্রমিকদের বেতনভাতা তাকে ঋণ করে হলেও পরিশোধ করতে চান। কিন্তু কাজ না থাকায় তাদের অলস বসিয়ে রাখাও আর্থিক ও সামাজিকভাবে নিরাপদ মনে করছেন না।
তিনি বলেন, কাজ না থাকায় কারখানা চালু থাকলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ নানা বিল পরিশোধ করতে হয়। এর বাইরে করোনাভাইরাসের আতঙ্কতো আছেই। এ কারণেই কাজ না থাকায় অলস বসিয়ে রাখার চেয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই পোশাক কারখানা মালিকের মতো আরো অনেকেই কাজ না থাকায় কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন।
বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান পরিচালক ফজলে শামীম এহসান গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, কাজ না থাকায় অনেকেই কারখানা বন্ধ রাখছেন। অন্তত ইউটিলিটি বিল তো বাঁচবে। তবে, যারাই কারখানা বন্ধ করছেন তারা নিজ উদ্যোগেই করছেন। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার পর তিনি যে দিকনির্দেশনা দেবেন সাংগঠনিকভাবে ওই সিদ্ধান্তই নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman