প্রতারণার ডিজিটাল ফাঁদ ॥ সারাদেশে বছরে ৫০ হাজার মানুষ প্রতারক চক্রের খপ্পরে

প্রতারণার ডিজিটাল ফাঁদ ॥ সারাদেশে বছরে ৫০ হাজার মানুষ প্রতারক চক্রের খপ্পরে

দেশব্যাপী সাধারণ মানুষ ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ছেন। ইন্টারনেট, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার এই চক্র বেড়েই চলছে। প্রতারকদের নিত্যনতুন কৌশলে সাধারণ মানুষ ধরাশায়ী হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার চাকরিজীবীরা এই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সময়ের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণার ধরন। বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যা। প্রতিদিন মাসে রাজধানীতে ছোট-বড় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কমপক্ষে এক হাজার মানুষ। আর প্রতিবছর সারাদেশে ছোট-বড় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ। এই ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদে

পড়ে শত শত কোটি টাকা খুইয়েছেন তারা। অনেকে জীবনের সব সঞ্চয় খুইয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। কিছু ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে গেলেও অধিকাংশই লোক লজ্জায় ও ঝামেলার ভয়ে পুলিশের কাছে যান না। এতে বহু প্রতারণার ঘটনা আড়ালে থেকে যায়। আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থা নানা পর্যায়ের নজরদারির কারণে চলতি বছরের ৯ মাসে ভয়ঙ্কর প্রতারক সাহেদ, ডাঃ সাবরিনা ও আরিফ দম্পতিসহ ছোট-বড় প্রায় ৫ হাজার প্রতারককে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক বিদেশী নাগরিক রয়েছে। বিদেশীদের মধ্যে নাইজিরিয়ান নাগরিক বেশি। তাদের নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন অনেক নারী ও পুরুষ। এসব ভয়ঙ্কর প্রতারকের পিলে চমকানো কৌশল জেনে অবাক হচ্ছে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা। তারপরও থেমে নেই প্রতারকচক্রের কারসাজি।

করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ওরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। এতে এই প্রতারকদের কখনও ক্ষমতাসীন দলের নেতা সাজতে দেখা যায়। কখনও তাদের পরিচয় উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়েও নানাভাবে প্রতারণা করে থাকে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি বা ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বসিয়েও প্রতারণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে প্রচার করেও কেউ কেউ প্রতারণার ফাঁদ পাতে। এদের অনেকে আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থা হাতে গ্রেফতারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন করে প্রতারণা শুরু করছে। সম্প্রতি এক বাবা ও ছেলে মিলে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধানসহ বিশিষ্টজনের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেক মানুষকে বিপাকে ফেলেছেন। দুটি ব্যাংকে তাদের হিসাবে প্রায় শতকোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যার কোন বৈধ উৎস পুলিশ খুঁজে পায়নি। ছেলের বিরুদ্ধে ধানম-ি ও পল্টন থানায় প্রতারণা, মতিঝিল থানায় অস্ত্র ও মাদক এবং উত্তরা থানায় অপহরণসহ হত্যা মামলা রয়েছে। এত অভিযোগের পরও এই বাবা-ছেলে জামিনে মুক্ত পেয়ে বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। পুরোনা কায়দায় আবারও প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তাদের কবলে পড়ে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপারও খুইয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। গত বছর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ঢাকার দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরিবারও তাদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত এক নারীর বিরুদ্ধেও প্রতারণা বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দারা সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে তার তদ্বির ও বহুরূপী প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিনটি হত্যা, অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের কর্মী হিসেবে তিন মাস পিয়নের কাজ করেছিলেন এমন এক প্রতারক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব, কখনও উপসচিব, কখনও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক, পরিচয় দিয়ে প্রতারণা অভিযোগ গ্রেফতার হয়েছে। প্রতারকদের কৌশলের অন্ত নেই। দেশী-বিদেশী ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেয়া, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ বিভিন্ন টোপ ফেলে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয় এসব ভয়ঙ্কর প্রতারক। রাজনৈতিক দলের লোক পরিচয়ে ওরা অবৈধ প্রভাব খাটায়। আবার ক্ষমতাসীন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও অনেকের নৈকট্য রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ মাসে আড়াই হাজার প্রতারককে গ্রেফতার করেছে সিআইড। প্রতারণার অভিযোগে ১৮ শত মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯শ’ মামলার চার্জশীট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। সিআইডির অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ রেজাউল হায়দার জনকণ্ঠকে জানান, জানান, প্রতারণার অভিযোগ ৪১ জন বিদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগে নাইজিরিয়ান নাগরিক। গ্রেফতারকৃতরা নাইজিরিনা নাগরিকরা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের কারও ভিসার মেয়াদ নেই। বাংলাদেশে অবস্থান করে ডলার বা গিফট দেবার নাম করে মানুষকে বোকা বানিয়ে তারা প্রতারণা করে আসছিলেন।

এদিকে র্যাব সদর দফতর সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ মাসে ১৭৬টি অভিযানে ভয়ঙ্কর প্রতারক সাহেদসহ ৪০৭জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। প্রতারণা অভিযোগে ১৭৮ মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে। র্যাবের পুলিশ সুপার সুজয় সরকার জনকণ্ঠকে জানান, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ১৫টি অভিযানে ৭৯জন প্রতারক, ফেব্রুয়ারিতে ১৪টি অভিযানে ২২জন প্রতারক, মার্চে ১২ অভিযানে ২৫জন প্রতারক, এপ্রিলে ৯টি অভিযানে ১৬ প্রতারক, মে মাসে ১০টি অভিযানে ১৪জন প্রতারক, জুন মাসে ৩৭টি অভিযানে ৮০ প্রতারক, জুলাই মাসে ৩০টি অভিযানে ৫৮ জন প্রতারক, আগস্ট মাসে ২৫টি অভিযানে ৪৫ জন প্রতারক, সেপ্টেম্বর মাসে ২৪টি অভিযানে ৬৮জন প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলে ১৭৮টি প্রতারণা মামলা হয়েছে। এদের বিদেশী নাগরিক প্রায় ৩০জন। এদিকে ডিএমপি মিডিয়ার সূত্র জানায়, চলতি বছর ৯ মাসে প্রায় ৩ হাজার প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। এতে প্রায় ১ হাজার মামলা হয়েছে।

প্রতারকের ধরন ॥ রাজধানীর মগবাজার মধুবাগের অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরে শাহীনা আক্তারের আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখছিলেন পরিবারের সদস্যরা। একটি অজ্ঞাত ফোন এলেই ব্যস্ত হয়ে উঠতেন তিনি। ফোনের হদিস করতে গিয়ে পরিবারের লোকেরা জানতে পারেন, অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি একজন প্রতারক। তিনি মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে শাহীনার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন। শাহীনা বুঝতে পারেন, প্রতারকের খপ্পরে পড়ে জীবনের সব সঞ্চয় তিনি খুইয়ে ফেললেন। শুধু শাহীনা নন, প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ এভাবে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন। পরিবার ও পরিকল্পনা অধিদফতরের সাবেক কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার জানান, গত ২০১৭ সালে তিনি অবসরে যান। তিনি গত বছরের জুনে বেসরকারী একটি টিভির বিজ্ঞাপনে যেকোন সমস্যার দ্রুত সমাধান ও মনের বাসনা পূর্ণ করার কথা বলে এতে একটি মুঠোফোন নম্বর দেয়া হয়। তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে ২ হাজার ১০০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠিয়ে নিবন্ধন করতে বলা হয়। টাকা পেয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, নিবন্ধন হয়ে গেছে। এরপর সেই ব্যক্তি নিজেকে ‘হুজুর’ পরিচয় দিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন। ওই হুজুর পরিচয় ব্যক্তি বলেন, আপনি ভাগ্যবতী, তবে ছেলেমেয়েদের ফাঁড়া বা বিপদ আছে। তা কাটাতে হলে জিনের মাধ্যমে চালান দিতে হবে। এতে টাকা লাগবে। টাকা না দিলে পরিবারের সবাই মারা যাবেন। শাহীনা আক্তার জানান, সেই হুজুর তাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন নম্বর দেন। এরপর তিনি ব্যাংকে জমানো পেনশনের টাকা এবং সোনা বন্ধক রেখে টাকা নেন। চার মাসে তিনি ২৫ লাখ টাকা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠান। অনেক পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। শাহীনার ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন, বহু কষ্টে জমানো টাকা খুইয়ে মা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। সিআইডি সূত্র জানায়, শাহীনার ছেলে আবদুল কাদের বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে হাতিরঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, টিভিতে ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যবস্থা করে দেয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফরিদউদ্দিন নামের এক সাংবাদিক।

প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সব খুইয়েছেন পল্লবীর আরেক নারী (৫০)। তিনি পেশায় স্কুলশিক্ষিকা। ওই শিক্ষিকা জানান, তিন বছর আগে একদিন রাতে আমার মোবাইলে ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে ওই ব্যক্তি নিজেকে জিনের বাদশাহ পরিচয় দিয়ে আমাকে গুপ্তধন পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখান। ওই হুজুর বলেন, টাকা না দেয়া হলে আমাকে ও আমার একমাত্র ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি করবেন। তার এমন আচরণে আমি ভয় পেয়ে যাই। শিক্ষিকা জানান, সারা জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধারদেনা করে কথিত জিনের বাদশাহর দেয়া ১৫টি বিকাশ নম্বরে ১০ লাখ টাকা পাঠান। পরে সেই জিনের বাদশাহর কথামতো নতুন সিম কার্ড কেনেন। মাসখানেক পরে রহিম, বাদশা, হাবিবুর রহমান, মান্নাত, মিন্টু আসাদ, রশিদ ও জুয়েল নিজেদের জিনের বাদশাহর প্রধান বলে পরিচয় দিয়ে টাকা চেয়ে আগের মতো ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। শিক্ষিকা জানান, ঘটনার পর থেকে আমি অসুস্থ। স্বজনদের কাছ থেকে জমি কেনার কথা বলে টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এখন তারা প্রতারকের খপ্পরে পড়েছি জানলে টাকার জন্য আমাকে মেরেই ফেলবে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় জিনের বাদশাহ পরিচয় দেয়া জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ দলের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম জানান, লোভ ও ভয় থেকে দূরে থাকলে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হট লাইনে যাচাই করে নিলে মানুষ এসব প্রতারকের কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণার ঘটনায় হওয়া মামলার এমন অর্ধশতাধিক ঘটনার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত তিন বছরে তারা এসব ঘটনায় জড়িত অন্তত ৫০ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। তাদের ২০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একজন ব্যক্তির আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা, অশ্লীল লিংক ছড়িয়ে ব্যবহারকারীকে বিব্রত করা, কারও ফেসবুক বা ই-মেইল আইডি হ্যাক করে অর্থ দাবি করা, মোবাইলে লটারি জেতার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদায়সহ প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এভাবে ফাঁদে ফেলে তারা সাধারণ মানুষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওদের প্রতারণা কৌশল সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝে উঠতে পারে না। এ ছাড়া ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল তৈরি, আউটসোর্সিং, ইউটিউবে এ্যাকাউন্ট করে আয়ের প্রলোভন ও ফেসবুক লাইক বিক্রির নামেও টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এমনকি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈধভাবে আয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চটকধারী বিজ্ঞাপন দিয়ে বেকার-তরুণদের কাছ থেকে ওরা কৌশলে টাকা আদায় করছে। এভাবে প্রতিদিন অসংখ্য ব্যক্তি প্রতারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকে লজ্জিত হয়ে বিষয়টি চাপা দেয়ায় প্রতিকারও পাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, ফকিরাপুল, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পান্থপথ, কলাবাগান, ধানম-ি, কাওরান বাজার, আর কে মিশন রোড, মালিবাগ, মহাখালী, উত্তরা এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েক শ’ ডিজিটাল প্রতারক চক্র। এদের নেই নির্দিষ্ট ঠিকানা, অফিস থাকলেও কয়েক দিন পর পরই পরিবর্তন করে থাকে। শুধু ল্যাপটপ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমেই চলে এদের কাজ। সরকারী প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে টাকা লুটেরও ভুল পথ খুঁজে দিচ্ছে এরা। আর এসব ফাঁদে পা দিয়ে প্রশাসনের কয়েকটি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সমস্যায় রয়েছেন।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ॥ গত ৫ অক্টোবর রাতে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মাস্টারমাইন্ড স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তিনি স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোর প্রেস থেকে সরকারী মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বের করতেন। এরপর তারই খালাত ভাই আরেক মাস্টারমাইন্ড জসিম উদ্দিন মুন্নুকে তা সরবরাহ করা হতো। জসিম তার বিভিন্ন সহযোগীর কাছে ফাঁস করা প্রশ্ন সরবরাহ করতেন। আর এই চক্রের সঙ্গে পাঁচ-ছয় জন অসাধু চিকিৎসক এবং তিন-চারটি কোচিং সেন্টার জড়িত আছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, এই চক্র ২০১৩ ও ২০১৫ সালের সকল সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল ও ডেন্টালের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিল। এর আগে গত ১৯ জুলাই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় মেডিক্যালের প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেয়ার মাস্টারমাইন্ড জসিম উদ্দিন এবং তার সহযোগী জাকির হোসেন দিপু ও পারভেজ খানকে। পরেরদিন মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডি সাইবার পুলিশ। তদন্তকালে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি এই কর্মকর্তা জানান, এই চক্রের মাস্টার মাইন্ড জসিমের কাছ থেকে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক, দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়। আসামিদের নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য পেয়েছি। প্রশ্ন ফাঁসের হোতা জসিমের মোট ৩৮টি ব্যাংক এ্যাকাউন্টের তথ্য পেয়েছি। এসব এ্যাকাউন্টে জমা টাকার পরিমাণ ২১ কোটি ২৭ লাখ। তার স্ত্রী শারমিন আরা জেসমিন ওরফে শিল্পীর ১৪টি এ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ তিন কোটি ৭৮ লাখ। এই টাকাগুলো লেনদন যখন হয়। তখন মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা হয়, সাধারণত অক্টোবর-নবেম্বরে এই এ্যাকাউন্টগুলোতে ক্রেডিট বেশি হয়েছে। আরেক মাস্টারমাইন্ড সালামের সম্পদ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশেষ পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম জানান, তার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে টাকা নেই বললেই চলে। তবে তার নেশা হলো জমি কেনা। তিনি কী পরিমাণ জমির মালিক তা জানার চেষ্টা চলছে।

আউটসোর্সিংয়ের নামে প্রতারণা ॥ গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী বসুন্ধরা এলাকা আরেক ভয়ঙ্কর প্রতারক আমিনুল ইসলাম লালুর (৪২) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি একের পর এক ভুয়া আউটসোর্সিং কোম্পানি খুলে বিমানবন্দরের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়েছে। গ্রেফতারকৃত আমিনুল ইসলাম লালুর গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার চন্দ্রপাড়ায়। সিআইডি জানায়, একের পর এক ভুয়া আউটসোর্সিং কোম্পানি খুলেছেন আমিনুল। এরপর সেখানে টাকার বিনিময়ে লোক নিয়ে তাদের বিমানবন্দরের এয়ার কার্গো বিভাগে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এভাবে প্রায় শতাধিক মানুষের কাছে থেকে দুই থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিনি।

এনআইডি দিয়ে প্রতারণা ॥ ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এই কাজে তাদের সহায়তার জন্য কোন কোন ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছে। এজন্য তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার জন্যই ভুয়া বা দ্বৈত এনআইডি তৈরি করত। গত দুই বছরে তারা অন্তত ৬৫-৭০টি ভুয়া বা দ্বৈত এনআইডি কার্ড তৈরি করছে। তারা এই ভয়ানক প্রতারণার করে রাজধানীতে একাধিক বাড়ি-গাড়ি মালিক বনে গেছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর এরকমই প্রতারক চক্রের সদস্য নির্বাচন কমিশনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সিদ্ধার্থ শংকর সূত্রধর (৩২), আনোয়ারুল ইসলাম (২৬) ও তাদের দালাল সুমন পারভেজ ও মজিদ, আব্দুল্লাহ গ্রেফতার করে সিআইডি।

বন্দীদের পরিবারও রেহাই পায়নি ॥ বন্দীদের পরিবার কাছ থেকে প্রতারণা মাধ্যমে লাখ টাকা হাতিয়ে চক্রের সদস্য শামীমকে গ্রেফতার করে গত ২৬ জুলাই ডিবি পুলিশ। ডেমরা থেকে তাকে গ্রেফতারের বেরিয়ে এসে কারাগারে বন্দীদের কাছ থেকে প্রতারকার মাধ্যমে টাকা নেয়ার নানা চাঞ্চল্যকর কাহিনী। তবে চক্রের হোতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে এরশাদ এখনও পলাতক। রাজধানীর কদমতলী থানায় ভুক্তভোগী নুরুল আমিনের করা অভিযোগে বলা হয়, তিনি কারাগারে থাকাকালীন গত ২৬ জুলাই বিকেলে তার স্ত্রী হেলেনা আক্তারের মোবাইল ফোনে একটি নম্বর থেকে কল করা হয়। ফোনের অপরপ্রান্তে ব্যক্তিটি বলেন, আপনার স্বামী জেলখানায় অন্য আসামির সঙ্গে মারামারি করেছেন। এক আসামির মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। ওই আসামির মাথায় ১৬টি সেলাই লেগেছে। সে জেলারের আত্মীয়। এক লাখ টাকা না দিলে আপনার স্বামীর অনেক সমস্যা হবে। সে কোনদিন জেল থেকে বের হতে পারবে না।

টাকার জন্য প্রতারক চক্রের সদস্যরা বারবার ফোন করে চাপ দিতে থাকেন উল্লেখ করে নুরুল আমিন জানান, টাকা নেয়ার জন্য দুটি বিকাশ নম্বর দেয়া হয়। নুরুল আমিনের স্ত্রী কোন উপায় না পেয়ে ওই দুটি বিকাশ নম্বরে ৭২ হাজার টাকা পাঠান। পরে গত ৩০ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন নুরুল আমিন। কারাগারে কোন ধরনের গ-গোল হয়নি বলে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান। ডিবির সাইবার এ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম টিম ইনচার্জ এডিসি আশরাফ উল¬াহ জানান, গ্রেফতার আসামিদের পরিবারের কাছ থেকে নানা কৌশলে টাকা নেয়া চক্রের হোতা জাহাঙ্গীর একজন পেশাদার প্রতারক। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। তিনি ১০টি বিয়ে করেছেন। অনেকের কাছ থেকে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রতারণায় বিদেশীরা এগিয়ে ॥ আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কাফরুল এলাকা থেকে র্যাবের একটি দল প্রতারণা অভিযোগে অনুরাহ নামদি ফ্রাঙ্ক (৩২), উদেজ ওবিনা রুবেন (৪১), ম্যাকদুহু কেভিন (৪১) ও ফ্রাঙ্ক জ্যাকব (৩৫) নামে চার নাইজিরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করে। এ সময় বাংলাদেশী নাগরিক টুম্পা আক্তারকে (২৩) আটক করে। র্যাবের গণমাধ্যম ও আইন শাখার পরিচালক লেঃ কঃ আশিক বিল্লাহ জানান, দামি উপহার পাঠানোর লোভ দেখিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পল্লবী ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দু’টি মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট, ব্যাংকে অর্থ জমাকৃত বই, চেকবই, ১২টি মোবাইল ফোন, একটি প্রাইভেট জিপ গাড়ি, নগদ তিন লক্ষাধিক টাকা জব্দ করা হয়। এছাড়া হোয়াটএ্যাপ-ইমো- ফেসবুকে কথোপকথনের স্ক্রিনশটের কপি জব্দ করা হয়। গত ১৮ আগষ্ট আমেরিকান নারী সেনা কর্মকর্তা বা সুন্দরী নারী সেজে ভুয়া ফেসবুক আইডি বা হোয়াটসএ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতকারী আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ১৫ নাইজিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা জানান, এরা বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ রেজাউল হায়দার জানান, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নাইজিরিয়ান নাগরিকদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি ল্যাপটপ, ২২টি মোবাইল ও ৫টি হিসাবের ডায়েরি জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুয়া ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসএ্যাপ ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ছবি পাঠিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর মেসেঞ্জারে জানান, তিনি ইয়েমেন, আফগানিস্তান বা সিরিয়াতে আছেন। তার কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলার রয়েছে, কিন্তু সে দেশে যুদ্ধ চলমান থাকায় যেকোন সময় তার এই সম্পদ নষ্ট হতে পারে। তাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে এসব ডলার বা সম্পদ তিনি উপহার দিতে চান। যদি তিনি বেঁচে থাকেন পরে তা ফেরত নেবেন। এমন প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে বন্ধুদের ঠিকানাসহ মোবাইল নম্বর নেন প্রতারকরা। পরে ওই ঠিকানায় বন্ধুদের মেসেঞ্জারে/হোয়াটসঅ্যাপে গিফট প্যাকেটের ছবি এবং একটি এয়ারলাইন্সে গিফট প্যাকেট বুকিংয়ের রশিদের কপি পাঠান। এর দু’দিন পর ভুক্তভোগীকে ভিডিও কলে এয়ারপোর্ট কাস্টমস অফিসে থাকা গিফট প্যাকেট দেখান এবং কাস্টমসের ভ্যাট বাবদ বিভিন্ন ধাপে টাকা নিতে থাকেন। এভাবে প্রতারণা মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে প্রায় শতাধিক নাগরিক থেকে। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের কারও ভিসার মেয়াদ নেই। বাংলাদেশে অবস্থান করে ডলার বা গিফট দেবার নাম করে মানুষকে বোকা বানিয়ে তারা প্রতারণা করে আসছিলেন।

ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে উপহার পাঠানোর নামে গত দুই মাসে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রের ১২ নাইজিরিয়ান নাগরিক ও বাংলাদেশী নারীকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি জানায়, ২০১৮ সাল থেকে প্রতারক চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ঢাকায় প্রধান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রতারণার জাল ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। আর এদের সঙ্গে জড়িত কাস্টমস ও ব্যাংকিং সেক্টরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও। সিআইডির সাইবার মনিটরিংয়ের এএসপি মোঃ রেজাউল মাসুদ বলেন, প্রথমে ফেসবুকে তার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে। আমরা অর্ধশত এ্যাকাউন্ট নজরে আনছি। আমরা কিছু বই পেয়েছি, কিছু চেক পেয়েছি। এসব প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে জনগণকে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাটি। সিআইডির সাইবার মনিটরিংয়ের এএসপি মোঃ রেজাউল মাসুদ বলেন, ব্যাংকিং লোকজন থাকতে পারে। কাস্টম ভিত্তিক লোক থাকতে পারে। পরে সংবাদ সম্মেলনে ১০ লাখ টাকাসহ ভিআইপি সিম বিক্রি প্রতারক চক্রের এক সদস্যকেও গ্রেফতারের কথা জানায় সিআইডি।

প্রতারকদের হাত থেকে প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম মনিরুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসী পরিচয় দিয়ে ফোনে চাঁদা চাইলে ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই। ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলুন, চাঁদার অঙ্ক কমাতে দর কষাকষি করুন। প্রয়োজনে ধমক দিন। ধমক দিলে গালি দিতে পারে। গালি দেয়ার অভ্যাস থাকলে আপনিও পাল্টা গালি দিতে পারেন। ওরা যখন বুঝে যাবে আপনি ভয় পাচ্ছেন না, তখন আর আপনাকে ফোন দেবে না। তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তারা সন্ত্রাসী নয়, পেশাদার প্রতারক। তিনি বলেন, সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম শাখা আপনাকে প্রতিকার দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গোয়েন্দা শাখায়ও জানাতে পারেন। তারাও আপনাকে সাহায্য করবে। বন্ধু না মনে করলেও এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারেন, পুলিশ আপনার শত্রু নয়। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারককে খুঁজে বের করা খুব কঠিন কাজ। আবার প্রতারক ধরা পড়লেও সাজা নিশ্চিত করা আরও কঠিন। টাকা ফেরত পাওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অসম্ভব। তাই সতর্ক থাকুন। আপনার সচেতনতায় প্রতারক তার পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অপরাধের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীদের বাঁচাতে কোন সংসদ সদস্যই যেন চেষ্টা না করেন, সে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চললে প্রতারকদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে যাবে। সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে বলে মনে করেন অপরাধ বিষেজ্ঞরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman