প্রাইভেটকারে জিম্মি করে টাকা না পেলে হত্যা করতো তারা

প্রাইভেটকারে জিম্মি করে টাকা না পেলে হত্যা করতো তারা

প্রাইভেটকারে যাত্রী উঠিয়ে ছিনতাই করতো, মাঝে মাঝে জিম্মি করে বিকল্প উপায়ে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে হত্যা করতো তারা। চালক বেশি ভংকর এই চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পুলিশও। বুধবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার সাভার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাইভেটকারে যাত্রী উঠিয়ে ছিনতাই ও হত্যার অভিযোগে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর (ডিবি)গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার পূর্বমাইজপাড়া গ্রামের ইস্কান্দার আলীর ছেলে মর্তুজা (৩৪) ও চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার সরদারকান্দি গ্রামের মুকতি খানের ছেলে শাহীন ওরফে সুহিন খান (৩৪)। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের দুটি দল গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-২ ও চাঁদপুর সরদারকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, নগদ ২০ হাজার টাকাসহ ছিনতাই ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার জানান, তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। গত ৯ ফেব্রুয়ারী মানিকগঞ্জ জেলায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল/৫৩৯ শ্রী লিটন মাহাতোকে কৌশলে প্রাইভেটকারে উঠায় ছিনতাইকারীরা। এর পর ওই পুলিশ সদস্যের হাত-পা বেঁধে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা (নং-৩৯) দায়ের করা হলে তা ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করলে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর-২ পোষ্ট অফিসের সামনে থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ চালক মুর্তুজাকে গ্রেফতার করে। একই তারিখ রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের অন্য একটি অভিযানিক দল চাঁদপুরের সরদারকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শাহীন ওরফে সুহিন খানকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরও জানান, এঘটনায় জড়িত আরো দুই সদস্যকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, গত বছরের ১৮ আক্টোবর মানিকগঞ্জের বাসিন্দা নিরাপত্তা কর্মী আলাউদ্দিনকে (৪৫) যাত্রী হিসেবে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে জিম্মি করে। পরে টাকা পয়সা না পেয়ে আলাউদ্দিনকে মারধর ও হত্যা করে ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকার পাল সিএনজি পাম্পের পার্শ্ববর্তী ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহেরের বাড়ির কাছে ফেলে দেয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি একইভাবে আবু নাঈম (৫৪) ও তার চাচাতো ভাই বেলায়েত হোসেনকে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে ছিনতাইকারীরা। পরে তাদের এটিএম কার্ডের পিন নম্বর নিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও বেলায়েতের মোবাইলের বিকাশ এ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ হাজার টাকাসহ দুটি মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয় চক্রটির সদস্যরা। পুলিশ এ সময় ঢাকা -আরিচা মহাসড়কে কোন অপরিচিত গাড়িতে না উঠার জন্য বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হাসান সরদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman