বাংলাদেশকে দেখে শিখতে পারে ভারত: আনন্দবাজার

বাংলাদেশকে দেখে শিখতে পারে ভারত: আনন্দবাজার

বাংলাদেশ এখন অনেকের কাছেই উন্নয়নের রোল মডেল। আর এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। সোমবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘ঠাকুরঘরে’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন খাতের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে দুই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সমান তালে এগোতে ভারত সরকারের কী করা উচিত, তা নিয়েও নিজস্ব মত জানিয়েছে পত্রিকাটি।

সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করে বলা হয়, ঢাকার বিদেশি মুদ্রা ভান্ডার এখন ইসলামাবাদের তিনগুণ।অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের ২০২০ সালের হিসাব— জনপ্রতি জিডিপি-র দিক দিয়ে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে। ১৯৭২ সালে ভারত যে অবস্থায় ছিল, নতুন বাংলাদেশ (যাকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হেনরি কিসিঞ্জার ‘বাস্কেট কেস’ বলেছিলেন) যেখানে ছিল, তা মাথায় রাখলেই বোঝা যায়, কে কতটা এগিয়েছে বা পিছিয়েছে।

বেশকিছু ক্ষেত্রে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ায় ভারতীয় প্রশাসনের সমালোচনা করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আইএমএফের হিসাব আন্তর্জাতিক নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় ও উদ্বিগ্ন বিজেপি আইটি সেল বুঝাতে শুরু করেছে, কেন বাংলাদেশ ও ভারতের এই তুলনা আসলে বাস্তবের যথার্থ প্রতিফলন নয়। আইটি সেলের যুক্তিতর্কের ধরনের সঙ্গে পরিচিতরাই বুঝবেন, কী ধরনের মারপ্যাঁচ এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প সেক্টরই তাকে করোনা-সংকটে বাঁচিয়াছে, এমন যুক্তিও সেই মারপ্যাঁচে জায়গা পেয়েছে— যদিও বোঝা কঠিন, ভারতকে সেই শিল্পে কোনো শিল্পে মনোনিবেশ করতে কে কবে বাধা দিয়েছিল।

আনন্দবাজারের সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, উন্নয়ন বোঝার জন্য জিডিপি’ই একমাত্র হিসাবের খাতা নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও জীবনমানের পরিস্থিতিও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূচক- এমন কথা অমর্ত্য সেনের মতো অর্থনীতিবিদরা বারবার বলেছেন। দেখিয়েছেন, কীভাবে যে ভারত একসময় মানব উন্নয়ন সূচকে উপমহাদেশীয় তালিকার একেবারে ওপরের দিকে ছিল, সে ক্রমেই তালিকার নিচের দিকে জায়গা নিয়েছে। ২০২০ সালের শেষে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের গড় আয়ু তিন বছর বেশি, শিশুমৃত্যুর হার ভারতের চেয়ে কম (হাজারে ভারত ২৮, বাংলাদেশে ২৫), সাক্ষরতায় দুই দেশ পাশাপাশি, শহর-জনসংখ্যার হারে বাংলাদেশ ৩৭ শতাংশ ও ভারত ৩৪ শতাংশ এবং নারী কর্মসক্ষমতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে (ভারত ২০ শতাংশ, বাংলাদেশ ৩৬ শতাংশ)। ফলে কে কোন দিকে অনুপ্রবেশ করবে, এখন সেটাই প্রশ্ন।

ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নিতে আনন্দবাজার পত্রিকা বলেছে, এসব ‘দায়িত্ব’ দিল্লির বর্তমান শাসক দলকেই নিতে হবে, এমনটা নয়, যদিও গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি উপর্যুপরি খারাপ হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman