বেশ কয়েকটি মসজিদকে ইহুদি উপাসনালয়, বারে পরিণত করেছে ইসরাইল

বেশ কয়েকটি মসজিদকে ইহুদি উপাসনালয়, বারে পরিণত করেছে ইসরাইল

ইসরাইলে বসবাসরত আরব নাগরিক নেতা কামাল খতিবের পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অন্তত ১৫টি মসজিদকে ইহুদি উপাসনালয় সিনাগগে পরিণত করেছে। এছাড়াও ৪০টির মতো মসজিদ ধ্বংস, বন্ধ বা নিষিদ্ধ করেছে। আর ১৭টি মসজিদকে বার, রেস্টুরেন্ট বা জাদুঘরে পরিণত করেছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী উত্তর বর্তমান ইসরাইলের সাফেদ শহরের আল-আহমার মসজিদকে কনসার্ট হল বানানো হয়েছে। আর সিজারিয়া শহরের আল-জাদিদ মসজিদকে বারে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়াও হাইফা শহরের আইন হাদ মসজিদ ও জাফার আল-সিকসিক মসজিদেরও একই পরিণতি।

খতিব বলেন, নাকবার পরে প্রায় ৫৩৯টি ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস করা হয়ে। আর ফিলিস্তিনি অবকাঠামো ও মসজিদগুলো ইসরাইলি কতৃপক্ষের সহজ শিকারে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, নাকাবার আগে যে মসজিদগুলো মুসল্লিতে পরিপূর্ণ ছিল নাকাবার পরে তা বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়। ইসরাইলি কতৃপক্ষ এসব মসজিদের বেশ কয়েকটি ধ্বংস করে দেয়। আর বাকী মসজিদগুলোকে সিনাগগ, বার, রেস্তোরা ও জাদুঘরে পরিণত করে।

খতিব দুঃখের সাথে আরো জানান, জাফফা শহরের আল-আসাফ কবরস্থান ইসরায়েলিরা শুধু ধ্বংসই করেনি বরং এই গোরস্থানের সমাধিগুলোও তারা উপড়ে ফেলে স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও।

তিনি জানান, ইসরাইল কতৃপক্ষ যেসব ফিলিস্তিনি তাদের বাসস্থান ত্যাগ করেছে সেগুলোও বাজেয়াপ্ত করেছে। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে এ সংক্রান্ত আইন পাশ করা হয়েছে যে, আরব নাগরিকরা যারা এসব অঞ্চল ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের বাসস্থান বাজেয়াপ্ত করা হবে।

বহু মসজিদ ও নামাজের স্থানগুলোতে ইসরাইল একই নীতি প্রয়োগ করে।

খতিব বলেন ফিলিস্তিনিরা “মসজিদগুলো পুনর্নির্মাণ, সংস্কার ও হামলা বন্ধে বারবার চেষ্টা করেছে। যদিও সব প্রচেষ্টাই ইসরাইল নস্যাৎ করে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের উসমানিয়া-যুগের শাসক জহির আল-উমর আল-জায়দানি বর্তমান ইসরাইলের উত্তর টাইবেরিয়াস শহরে তার নামে ১৭৪৩ সালে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ১৯৪৮ সাল ফিলিস্তিনের প্রথম নাকাবা পর্যন্ত যা উমরি মসজিদ নামে পরিচিত ছিল।

মামলুক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি টাইবেরিয়াসের অন্যতম একটি নিদর্শন। অনেকের কাছে জায়দানি মসজিদ নামে পরিচিত এই মসজিদে একটি বড় গম্বুজ ও একটি মিনার রয়েছে।

ইসরাইলের আরব নাগরিক নেতা কামাল খতিব বলেন, নাকাবার সময় টাইবেরিয়াস শহরের অধিকাংশ ফিলিস্তিনি সিরিয়া ও লেবাননে চলে যায়। আর জায়দানি পরিবার পাশের নাসিরাতে স্থানান্তরিত হয়।

খতিব বলেন, জায়দানি পরিবারের পক্ষ থেকে ইসরাইলের কাছে উমরি মসজিদটি সংস্কারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, সে সময় টাইবেরিয়াস পৌরসভা এর সংস্কার করবে বলে যুক্তি দিয়ে তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তার পরে আর কিছুই হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ইসরাইল কর্তৃপক্ষ মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের এই মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মসজিদটি বন্ধ করে দেয়।

ইসরাইলি কতৃপক্ষের মতে প্রায় ১৫ লাখের মতো ফিলিস্তিনির বসবাস ইসরাইলে।

যদিও এসব অভিযোগ নাকচ করে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের অক্টোবরে জানায়, ২৫ বছর ধরে প্রায় ৪০০ মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়।

মন্ত্রণালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে বসবাসরত মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণে লাখ লাখ শেকল বরাদ্দ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকার শতাধিক মসজিদকে অনুদান দেয় ও এসব মসজিদের ইমামদের বেতন দেয়।

কামাল খতিব অবশ্য ইসরাইলের এসব দাবি খারিজ করে বলেছেন, ইসরাইল সরকার দেশটির ইতিহাসে কখনো মসজিদ নির্মাণ করেনি।

তিনি বলেন, এসব মসজিদ আমাদের লোকেরা তৈরি করেছে। তারা মসজিদ নির্মাণের জন্য বিভিন্নভাবে অনুদান সংগ্রহ করেছে।

খতিব আরো বলেন, সব মসজিদ ইসরাইলের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের নিবন্ধভুক্ত নয়। এসব মসজিদের ইমামগণ মসজিদ কমিটির কাছ থেকে বেতন পান, মসজিদের সংগ্রহকৃত অর্থ থেকে তা দেয়া হয়। ইয়েনি শাফাক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman