মুখে গামছা বেঁধে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

মুখে গামছা বেঁধে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

•লালমনিরহাটে এক কিশোরী দ্বিতীয়বার ধর্ষিত

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া নয় বছরের এক শিশু ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে মুখে গামছা বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি গৌরনদী খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সমরসিংহ গ্রামের। গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ তৌহিদুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর শুক্রবার সকালে শিশুর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

এজাহারে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর দুপুরে প্রতিবেশী মৃত সফিজ উদ্দিন বেপারীর পুত্র শাহ নেওয়াজ বেপারী নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে সম্পর্কে নাতনি ওই শিশুর মুখে গামছা বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে স্কুল ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে ধর্ষক শাহনেওয়াজ বেপারী পালিয়ে যায়। সেই থেকে নিজ এলাকা ছেড়ে ধর্ষক শাহনেওয়াজ আত্মগোপন করেছে। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরলে স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা করানো হয়।

১১ কিশোরীর ধর্ষক কারাগারে ॥ বাকেরগঞ্জে কাকরধা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নওরোজ হিরাকে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবসে অতিগোপনে লম্পট নওরোজ হিরা সিকদার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালতের বিচারক এসএম মাহফুজ আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ১১ জন কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামাল হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। লম্পট নওরোজ হিরা উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নওরোজ হিরা সিকদার কৌশলে ছাত্রীদের ভাল রেজাল্ট পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে তা ভিডিওচিত্র ধারণ করত। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে গত চার বছরে ওই স্কুলের ১১ কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসছিল। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার এক স্কুল ছাত্রীর মা গত ২৮ অক্টোবর বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় নওরোজ হিরা ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

নোয়াখালীতে তুলে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী থেকে তুলে নিয়ে তরুণীকে (১৯) ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে রাতভর মারধর করেছে তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পী (২৯) ও তার তিন সহযোগী।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সাবেক স্বামীসহ ৪ জন ও সিএনজি চালকসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে ভুক্তভোগী নিজেই সুধারাম মডেল থানায় মামলা করেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এখন এক আত্মীয়ের বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই নারী। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় ওই নারীর সাবেক স্বামীসহ তিনজন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে এমন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

আসামিরা হলো, ওই তরুণীর সাবেক স্বামী কবির হাট উপজেলার নবগ্রামের মোঃ ইউসুফের ছেলে ইসমাইল হোসেন বাপ্পী, তার সহযোগী রহিম (২৪), আরমান (২৫) সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সাগর (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিজ কর্মস্থল জেলা শহর মাইজদীর গ্রিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মাইজদীস্থ হরিনারায়পুরের বাসায় ফিরছিলেন শিক্ষানবিশ ওই নার্স। মাইজদী পেট্রোল পাম্পের সামনে অটোরিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি গন্তব্যে যাবার জন্য উঠে পড়েন। পরে ওই গাড়িটি একটু সামনে গেলে দু’জন যাত্রী সামনের সিটে ওঠেন। আর একটু সামনে গেলে তার সাবেক স্বামী ও আরও একজন ভিকটিমের দু’পাশে উঠে বসেন। সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় ওঠার পর থেকেই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে তার সাবেক স্বামী বাপ্পী ও তার সহযোগী রহিম (২৪)। চোখ-মুখ চেপে ধরে কবিরহাট উপজেলার নবগ্রামে নিয়ে যায় তাকে। সিএনজি থেকে নামানোর পর বুঝতে পারে এটি তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পির বাড়ি। ফাঁকা বাড়িতে সাবেক শ্বশুর-শাশুড়ি কেউই নেই। সিএনজিতে মারতে মারতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। ঘরে ঢুকিয়েও বেদম মারধর করে তার সাবেক স্বামী। রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জলন্ত সিগারেটের আগুনে মুখমণ্ডলে ছ্যাকা দেয়া ও অপর দুইজনসহ ধর্ষণের চেষ্টা করে কিন্তু নির্যাতন সহ্য করে ধর্ষণ থেকে রক্ষা পান ওই তরুণী। ভোরের দিকে অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকে এ সুযোগে পালিয়ে মাইজদী চাচার বাসায় এসে আশ্রয় নেন তিনি। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন চিকিৎসাধীন। রাতে চাচার সহায়তায় মামলা দেন থানায়।

সুধারাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীর হোসেন জানান, রাতে ভুক্তভোগীর মামলা নেয়া হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পরই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইসমাইল হোসেন বাপ্পীকে আটক করেছে।

লালমনিরহাটে একই কিশোরী দ্বিতীয়বার ধর্ষণের শিকার ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা লালমনিরহাট থেকে জানান, জেলার পাটগ্রামে এক কিশোরী (১৭)কে ধর্ষণের অভিযোগে রবি মিয়া (১৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার কিশোরীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ নবেম্বর) রাতে কিশোরীটি বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ওই কিশোরী পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামে বাড়ি। অভিযুক্ত রবি মিয়া একই উপজেলার জোংরা, মমিনপুর গ্রামের আব্দুল আলীম মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহারে সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী একই উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কেরারটারী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে বুধবার রাতে তার বোন ও বোন জামাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে বোন জামাইয়ের প্রতিবেশী ভাতিজা রবি মিয়া ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। সে সময় মেয়েটির বোন বাড়িতে এসে তাকে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত ধর্ষক রবি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় বৃহস্পতিবার (৫ নবেম্বর) রাতে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত বলেন, ভিকটিম তার বোন জামাইসহ থানায় আলামত নিয়ে আসে। ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে কিশেরীর মেডিক্যাল টেস্ট করতে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখানে শুক্রবার মেডিক্যাল টেস্টে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, মেয়েটি গত ৯ অক্টোবর কালীগঞ্জের কাকিনায় গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেছিল। যা দেশব্যাপী বহুল আলোচিত হয়। পাটগ্রাম থানায় এসে প্রথমদিকে সেই ঘটনাটি অস্বীকার করেছিল। পরে প্রাথমিক তদন্তে পূর্বের ধর্ষণের ঘটনাটা বেরিয়ে এসে স্বীকার করেছে ওই কিশোরী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman