লাগামহীন সবজির বাজার, বেড়েছে ডিমের দাম

লাগামহীন সবজির বাজার, বেড়েছে ডিমের দাম

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যার প্রভাবে কাচা মরিচসহ সবজির বাজার বেশ চড়া রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে টানা বাড়তি ছিল সবজির বাজার। সবজিভেদে কেজিতে ৫-১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ধনিয়া পাতার দাম। কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে সবজির সঙ্গে বাড়তি দাম রয়েছে শাকের বাজারেও। শাকভেদে প্রতিমোড়ায় দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে অপরিবর্তিত আছে চাল, ডাল, তেল ও মসলার বাজার। এ ছাড়া চালের বাজারও বাড়তির দিকে রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। এসব বাজারে কেজিতে ৫-১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে প্রতিকেজি শসা (দেশি) বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০, হাইব্রিড শসা ৪০-৫০, পেঁপে ৪০-৫০, গাজর ৮০, করলা ৮০, উস্তা ৯০-১০০, মানভেদে ঝিঙা-ধুন্দল ৬০, চিচিঙা ৫০-৬০, কাকরোল আকারভেদে ৬০-৭০, বরবটি ৭০, ঢেঁড়স ৬০-৭০, পটল ৬০-৭০, বেগুন আকারভেদে ৭০-১০০, মিষ্টি কুমড়া ৩৫-৪০, টমেটো ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিদরে।
তবে কচুর ছড়া, কচুর লতি, কলা, কাঁচা মরিচের দাম অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে কচুর ছড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০-৬০, প্রতিহালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ ১৮০ টাকা, দেশি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪, মিনিকেট চাল পুরান ৫৫, বাসমতি চাল ৫৮-৬০, আতপ চাল ৫৫-৬০, পোলাও’র চাল ৯৫-১০০, গুটি চাল ৪২-৪৪, পায়জাম চাল ৪৫, আঠাশ চাল ৪৫-৪৬ টাকা ও এক সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজিদরে। প্রতিকেজি ডাবলি ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫, এংকর ৫০, দেশি মসুর ডাল ১২০, মসুর ৮০ টাকা কেজিদরে। খোলা সয়াবিন তেল (লাল) বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০৫ টাকা ও খোলা (সাদা) সয়াবিন ১০০ টাকা লিটার। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। ডিমের পাশাপাশি কিছুটা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি দামও। তবে কিছুটা নিম্নমুখী মাছের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে মাছের দাম। অন্যদিকে অপরিবর্তিত আছে গরু, মহিষ, খাসি ও বকরির মাংসের দাম।
এসব বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিদরে। রোস্টের ছোট আকারের মুরগি প্রতি চার পিস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এদিকে এসব বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০, কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৮০ টাকা কেজিদরে। আগের দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি মুরগি। বাজারে দেশি মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। অপরিবর্তিত আছে গরু-খাসি মাংসের দাম। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০-৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৮০ টাকা আর বকরির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকা।
অন্যদিকে কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে এসব বাজারে প্রতিকেজি কাঁচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০, মলা ৩০০-৩৫০, দেশি টেংরা ৩৫০-৫০০, নদীর টেংরা (বড়) ৪৫০-৫০০, শিং (আকারভেদে) ২৮০-৪৫০, দেশি শিং ৭০০-৮০০, পাবদা ২৮০-৩৫০, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৩৫০-৪০০, কৈ মাছ ১৫০-১৭০ টাকায়। অপরিবর্তিত আছে ইলিশের দাম। সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা কেজিদরে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকায়, প্রতি ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ টাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman