সঙ্কট মেটাতে ১১ দেশ থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আসছে

সঙ্কট মেটাতে ১১ দেশ থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আসছে

  • ভোজ্যতেল ও চালের দাম হঠাৎ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নিত্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ভোজ্যতেল ও চালের দাম। বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে শাক-সবজির বাজারে। আগের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। আটা, চিনি, ডাল, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমলেও খুচরায় কমছে না পেঁয়াজের দাম। এ কারণে দ্রুত সঙ্কট মেটাতে ১১ দেশ থেকে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আসছে দেশে। শীঘ্রই এসব পেঁয়াজ দেশে আসলে দাম কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফার্মগেট বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও মিরপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এক অজানা কারণে সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবি নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা ওয়েবসাইটে দেয়া বন্ধ রেখেছে। টিসিবি কেন এবং কি কারণে নতুন করে আর তথ্য সরবরাহ করছে না তার কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারী এই তথ্য সরবরাহ থেকে সাধারণ মানুষও নিত্যপণ্যের দরদাম সম্পর্কে একটি ধারণা পেতেন।

এদিকে, কয়েক মাস ধরেই চালের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এক্ষেত্রে মিল-মালিকদের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে আবার বাড়ছে চালের দাম। সব ধরনের চালে প্রায় ২-৩ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে। এ বছর করোনার কারণে বিশ্বে ভোজ্যতেলের চাহিদা কমলেও সম্প্রতি বাংলাদেশে দাম বাড়তে শুরু করেছে। দাম বাড়ার কোন কারণ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে পামওয়েল ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে অন্তত ১০ টাকা করে এবং সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা করে বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে ফার্মগেট বাজারের মুদি দোকানি শহীদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, চারদিন ধরে পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তিনি জানান, পাম তেল ও সয়াবিন তেল লিটারে ১০ টাকার মতো বেড়েছে। খুচরায় ৭৩ টাকার পাম তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৪ টাকায়। ৮৫ টাকার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে পামওয়েলের ড্রাম (৫ মণ) ছিল ১২ হাজার টাকা, এখন সেটা হয়েছে ১৬ হাজার ৪০০ টাকা। সয়াবিন তেল আগে ছিল ১৫ হাজার এখন সেটা হয়েছে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা। পাশের আরেক মুদি দোকানি জানান, দাম বাড়ার পর এখন সুপার সয়াবিন আর সয়াবিন একই দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি সুপার ৯৫ টাকায়। মানের দিক থেকে সয়াবিনের চেয়ে একধাপ পিছিয়ে আছে সুপার।

এদিকে, ঢাকার মৌলভীবাজারে পাইকারি ভোজ্যতেল বিক্রেতা ও পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বলেন, গত সপ্তাহে কয়েকদিনের জন্য ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পর এর প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়েছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমে যাওয়ার পর গত তিনদিন আগে দেশের পাইকারি বাজারেও দাম কমেছে।

এছাড়া হঠাৎ কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই চালের দাম প্রতি কেজিতে অন্তত ২-৩ টাকা বেড়ে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে পাইজামের দর ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৭ টাকা হয়েছে। সাধারণ মানের মিনিকেট ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ টাকা হয়েছে। বিআর আটাশ সাড়ে ৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ টাকা হয়েছে। রশিদ, মোজাম্মেল ও বিশ্বাসসহ অন্যান্য নামী ব্র্যান্ডের মিনিকেটের ৫০ কেজির বস্তা ২৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭০০ টাকায় উঠেছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের বিক্রেতা নুরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি ধানের দাম বেড়েছে বলে শুনছি। ধানের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়েছে। গত এক সপ্তাহে সুগন্ধি চাল ছাড়া বাকি সব ধরনের চালের দাম বস্তায় দেড় শ’ থেকে দুই শ’ টাকা করে বেড়েছে। মিল পর্যায়ে এখন মিনিকেট ২৭০০ টাকা, পাইজাম, লতা বিআর আটাশ ২৩৫০ টাকা, মোটা চাল ২২০০ টাকায় প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাজারে আলুর দামও বেড়েছে। কাওরান বাজারে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছিল ৪০ টাকা, এক পাল্লা (৫ কেজি) ২০০ টাকা। বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে এবার প্রায় তিনমাস ধরেই চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে শাক সবজি। বাজারে অধিকাংশ সবজির দামই এখন প্রতিকেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। বিগত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, লতি ৫০ টাকা, ঝিঙা ৭০ টাকা, সিম ১৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরেই বাজারে নতুন আসা ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা। তবে এখন ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহের মতোই এই সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১১০ টাকা, হাসের ডিম ১৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১২৫ টাকা, লেয়ার ২৩০ টাকা থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে আগের মতো সরবরাহ বেড়েছে ইলিশ মাছের। আকারভেদে প্রতিকেজি ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-১০০০ টাকায়।

সমুদ্র পথে পেঁয়াজ আসছে ॥ সরবরাহ বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম কমছে না পেঁয়াজের। প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৮০-৯০ এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে ১১ দেশ থেকে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আসছে বিভিন্ন দেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ আকার ও স্বাদের পেঁয়াজ আসছে সমুদ্রপথে। ১১টি দেশ থেকে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman