১ ডলারের রং উঠিয়ে ১০০ ডলার বানায় তারা

১ ডলারের রং উঠিয়ে ১০০ ডলার বানায় তারা

এ চক্রটি টাকার পাশাপাশি জাল ডলার তৈরী করছিল। এ ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছিল তারা। কারন বিভিন্ন মানের ডলারের আকার এক হওয়ায় ১ ডলারের রং উঠিয়ে ১০০ ডলার বানাচ্ছিল চক্রটি। এরকম রং তুলে বানানো ১১৩টি ১০০ ডলার তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও এ চক্রের মূলহোতা কাজী মাসুদ পারভেজ একাধিক প্রতারণা মামলার আসামী। প্রথমে প্যারা মিলিটারি ফোর্স তৎকালীন বিডিআর এ চাকরি করতেন তিনি। সেখান থেকে চাকরি চলে গেলে প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন পারভেজ

রাজধানীর কোতোয়ালী ও আদাবর থানা থেকে ৫৮ লাখ ৭০ হাজার জাল নোট ও নকল ডলারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) এসব তথ্য জানান ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল। তিনি বলেন, গত শুক্রবার রাজধানীর কোতয়ালী, আদাবর থানাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলহোতা পারভেজ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন- মো. মামুন, মোছা. শিমু, মো. রুহুল আলম, মো. সোহেল রানা ও মো. নাজমুল হক।

এ সময় তাদের কাছ থেকে জাল টাকা ও ডলার ছাড়া দুই বান্ডিল ছাপানো জাল টাকার কাগজ, একটি ল্যাপটপ, দুইটি স্ক্যানার, একটি লেমিনেটর, দুইটি প্রিন্টার, ১২টি ট্রেসিং প্লেট, ৫ রিম জাল টাকা ছাপানোর কাগজ, জাল টাকা ছাপানোর জন্য বিভিন্ন রংয়ের ৮ বোতল কালি, জাল টাকা তৈরির সময় টাকার ক্রমিক নাম্বার দেয়ার সীল ও একটি এফ প্রিমিও প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘ ৫-৬ বছর যাবত পরস্পর যোগসাজসে জাল নোট তৈরী করে খুচরা ও পাইকারিভাবে বিক্রি করতো।

তারা বড় কোন উৎসব যেমন-ঈদ, দুর্গাপূজা ইত্যাদি অনুষ্ঠানকে টার্গেট করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে জাল টাকা সরবরাহ ও বিক্রয় করতো। তারা ডলার তৈরিতেও পারদর্শী ছিল। তাদের তৈরিকৃত ডলার আসল না নকল তা সহজে বুঝা যেত না। গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, এ চক্রের মূলহোতা পারভেজ ২০০৮ সালে বতর্মান বিজিবি তৎকালীণ বিডিআরে চাকরিতে ঢুকেন। প্রায় ৮ বছর চারী করার পর তার চাকরী চলে যায়। এর পরেই তিনি প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। তার নওগাঁয় ডেইরী ও আইটি ফার্মসহ নামে-বেনামে অনেক সম্পতি রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই একজন সৈনিক হয়ে এত টাকা কোথায় পেলেন সে বিষয়টিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পত্তির অনুসন্ধান পাওয়া গেলে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করা হবে তার বিরুদ্ধে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman