৫২ জেলায় রোগী শনাক্ত, শীর্ষে ঢাকা আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩০৬

৫২ জেলায় রোগী শনাক্ত, শীর্ষে ঢাকা আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩০৬

আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩০৬

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৮৪ জন। এক দিনে নতুন করে আরও করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩০৬ জন এবং করোনায় মোট শনাক্ত হলেন দুই হাজার ১৪৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ২১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আর নমুনা পরীক্ষা করা হয় দুই হাজার ১৯০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আটজন। শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনলাইনে প্রচারিত হয়। সেখানে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে ৯ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৬০ বছর ঊর্ধ্বো চারজন। ৫১-৬০ বছরের মধ্যে আছেন একজন, ৪১-৫০ বছর বয়সের মধ্যে আছেন দুজন, ৩১-৪০ বছর বয়সের মধ্যে একজন এবং আর একজনের বয়স জানা যায়নি। এদের মধ্যে ৬ জন ঢাকার, দুজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন সাভারের। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের কোটায় শতকরা ২৭ ভাগ, ৩১-৪০ বছর বয়সি ২২ ভাগ, ৪১-৫০ বছর বয়সি আছেন ১৯ ভাগ। নতুন সংক্রমিতদের মধ্যে পুরুষ শতকরা ৬২ ভাগ, বাকিরা নারী। ডা. সেব্রিনা বলেন, পরপর দুটি পরীক্ষায় সংক্রমণ নেই এমন চিহ্নিত ব্যক্তির সংখ্যা ৮। এ নিয়ে সর্বমোট ৬৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। ২ হাজার ১৪৪ জন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৬৪ জন। বাকিরা হোম আইসোলেশনে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১ জন আছেন আইসিইউতে। বাকি সবার অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল। বুলেটিনে আরও ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা শহরে, যা শতকরা ৩২ ভাগ। এরপর আছে গাজীপুর। গাজীপুরে নতুন শনাক্ত হয়েছে। এর আগে যারা শনাক্ত হয়েছিলেন তারা বেশির ভাগই নারায়ণগঞ্জ থেকে গেছেন। গাজীপুরের পরই নতুন সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ। গত তিন দিন আমরা যেসব রোগীর কথা বলছি সেটা আমাদের পরীক্ষার প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, এখানে এক দিনের তথ্য পেন্ডিং ছিল। ১৬ তারিখের আক্রান্তদের তথ্যের সঙ্গে কিছু আক্রান্তের তথ্য ছিল ১৫ তারিখের। সেটাকে আমরা নতুন তারিখ অনুযায়ী বিভাজন করেছি। নতুন বিভাজন করার পর আমরা এটাকে সংশোধন করেছি। নাসিমা সুলতানা জানান, এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২১ হাজার ১৯১টি। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে আছেন ৬৬ জন। আর মোট আইসোলেশনে আছেন ৫৯৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩২ জন। সব মিলিয়ে মোট মুক্ত হয়েছেন ৫১২ জন। তিনি জানান, আজ ভালো খবরের মধ্যে হলো নতুন করে ল্যাব সংযোজিত হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। যশোরের আশপাশের জেলার নমুনা এখন থেকে সেখানেই পরীক্ষা করা হবে। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩ হাজার ৬৪১ জন। এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৯২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৭৪ জন। এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪ হাজার ৮৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৮১৫ জনকে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৪ জনকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৪ হাজার ২৬ জন। মোট ছাড় পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯৩ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে ৪৪ হাজার ২২৭ জন এবং ৪ হাজার ৮৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। এখন পর্যন্ত মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৮ হাজার ৩৭১ জন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 doinikprovateralo.Com
Desing & Developed BY Md Mahfuzar Rahman